রেকর্ড আলুর উৎপাদন, বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আলু উৎপাদন হয়েছে জার্মানিতে। এর ফলে রাজধানী বার্লিনজুড়ে বিনামূল্যে আলু বিতরণের অভূতপূর্ব উদ্যোগ শুরু হয়েছে। চিড়িয়াখানা থেকে শুরু করে স্যুপ কিচেন সব জায়গাতেই টন টন অলু বিতরণ করা হচ্ছে।  শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, জার্মানরা বছরে গড়ে জনপ্রতি প্রায় ৬৩ কেজি আলু খান। তবে এবারের ব্যতিক্রমী ফলন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে সবচেয়ে বড় আলুপ্রেমীর পক্ষেও তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘কার্টোফেল-ফ্লুট’ (আলুর বন্যা)। রেকর্ড ফলনের পর এক কৃষক বার্লিনজুড়ে আলু বিনামূল্যে বিলি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে এসে আলু নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্যুপ কিচেন, গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্র, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, চার্চ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই আলু সংগ্রহ করেছে। এমনকি বার্লিন চিড়িয়াখানাও এই ‘রেসকিউ মিশনে’ অংশ নিয়েছে। ল্যান্ডফিলে ফেলার বদলে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে তারা টনকে টন আলু নিয়েছে। এছাড়া দুই ট্রাকভর্তি আলু পাঠানো হয়েছে

রেকর্ড আলুর উৎপাদন, বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আলু উৎপাদন হয়েছে জার্মানিতে। এর ফলে রাজধানী বার্লিনজুড়ে বিনামূল্যে আলু বিতরণের অভূতপূর্ব উদ্যোগ শুরু হয়েছে। চিড়িয়াখানা থেকে শুরু করে স্যুপ কিচেন সব জায়গাতেই টন টন অলু বিতরণ করা হচ্ছে। 

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, জার্মানরা বছরে গড়ে জনপ্রতি প্রায় ৬৩ কেজি আলু খান। তবে এবারের ব্যতিক্রমী ফলন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে সবচেয়ে বড় আলুপ্রেমীর পক্ষেও তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘কার্টোফেল-ফ্লুট’ (আলুর বন্যা)। রেকর্ড ফলনের পর এক কৃষক বার্লিনজুড়ে আলু বিনামূল্যে বিলি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে এসে আলু নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্যুপ কিচেন, গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্র, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, চার্চ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই আলু সংগ্রহ করেছে। এমনকি বার্লিন চিড়িয়াখানাও এই ‘রেসকিউ মিশনে’ অংশ নিয়েছে। ল্যান্ডফিলে ফেলার বদলে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে তারা টনকে টন আলু নিয়েছে। এছাড়া দুই ট্রাকভর্তি আলু পাঠানো হয়েছে ইউক্রেনে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা সাধারণ নগরবাসীও আগ্রহ নিয়ে নির্ধারিত বিতরণকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। বস্তা, বালতি, এমনকি ঠেলাগাড়িতে করেও আলু নিয়ে যাচ্ছেন তারা। বার্লিনের পূর্ব প্রান্তের কাউলসডর্ফ এলাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে পুরোনো ব্যাকপ্যাক ভর্তি আলু সংগ্রহ করেন শিক্ষিকা আস্ট্রিড মার্জ। তিনি বলেন, ১৫০টির পর আর গোনা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। মনে হয় বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত আমার আর প্রতিবেশীদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।

এই উদ্যোগের নাম ‘৪০০০ টন’। এটি লাইপজিগের কাছে এক কৃষকের অবিক্রীত অতিরিক্ত আলুর পরিমাণ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। একটি বিক্রয়চুক্তি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ওই কৃষক গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ আলু বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একটি বার্লিনের সংবাদপত্র এবং পরিবেশবান্ধব সার্চ ইঞ্জিন ইকোসিয়া যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।

মার্জ বলেন, প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে দেখে মনে হয়েছিল এটা এআই দিয়ে বানানো ভুয়া খবর। মাটির আপেলের বিশাল পাহাড়ের ছবি আর লেখা ‘ফ্রি নিয়ে যান!’ প্রচণ্ড শীত, বরফাচ্ছন্ন রাস্তা ও ব্যাহত গণপরিবহনের মধ্যে এই আলু উৎসব অনেকের মনোবল বাড়িয়েছে।

টেম্পেলহোফার ফেল্ড থেকে আলু তুলতে গিয়ে রোনাল্ড নামের এক বাসিন্দা বলেন, পুরোটা যেন পার্টির মতো ছিল। সবাই একে অপরকে ভারী বোঝা তুলতে সাহায্য করেছে, রান্নার টিপসও আদান-প্রদান হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে এখন ছড়িয়ে পড়ছে নানা আলুর রেসিপি। পুষ্টিবিদরা বলছেন, আলুতে ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ রয়েছে।

বার্লিনের তারকা শেফ মারকো মুলার বলেন, এখনই আলুকে ‘মিশেলিন-স্টার’ মর্যাদা দেওয়ার সেরা সময়। তিনি আলুর খোসা ভেজে ঘন ব্রথ বানান এবং জনপ্রিয় আলু ভিনেগ্রেট প্রস্তুত করেন। আলোচনায় আছে সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের আলু স্যুপের রেসিপিও। যেখানে তিনি বলেছিলেন, আমি সব সময় হাত দিয়ে আলু মাড়াই, মিক্সার ব্যবহার করি না।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে আরও এক দফা আলু বিতরণ হতে পারে। তাদের ওয়েবসাইটে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। 
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow