রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুই বিএনপি নেতাকে শোকজ
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে দেওয়া শোকজ নোটিশকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি ও বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুই বিএনপি নেতাকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনের পূর্ব ভিডিও বার্তায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান এই ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুইজন শেখ সুজাতের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। বিএনপির এই বিরোধের সুযোগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী। হবিগঞ্জ-১ আসনের হিসাব-নিকাশ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আসনে এখন ত্রিমুখী লড়াই হবে।রেজা কিবরিয়া, শেখ সুজাত মিয়া ও শাহজাহান আলী সমান তালে নির্বাচনী
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে দেওয়া শোকজ নোটিশকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি ও বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুই বিএনপি নেতাকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনের পূর্ব ভিডিও বার্তায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান এই ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুইজন শেখ সুজাতের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। বিএনপির এই বিরোধের সুযোগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী। হবিগঞ্জ-১ আসনের হিসাব-নিকাশ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আসনে এখন ত্রিমুখী লড়াই হবে।
রেজা কিবরিয়া, শেখ সুজাত মিয়া ও শাহজাহান আলী সমান তালে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র মতে, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিতু মিয়া সেন্টু পৃথকভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড. রেজা কিবরিয়াকে শোকজ নোটিশ প্রদান করে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা বিএনপি দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করে। হাতে গোনা দু-একজন ব্যতীত প্রেসক্লাবের কোনো সাংবাদিককে দাওয়াত না দিলেও, অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিও সরাসরি ফেসবুক লাইভ করা হয়।
নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা তাঁর বক্তব্যে মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান ও জিতু মিয়া সেন্টুর অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। একই সাথে তিনি এই ঘটনার জন্য বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়াকে দায়ী করেন। নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান বলেন, শেখ সুজাতের পিএস জিতু মিয়া সেন্টু ও বিএনপি নেতা মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমানকে কারণ দর্শানোর জন্য তিন দিনের সময় দিয়ে নোটিশ করা হয়েছে। তাঁরা কেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনগড়া মিথ্যা অভিযোগ করলেন, তার জবাব চাওয়া হয়েছে। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক জবাব না দিলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর প্রেক্ষিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সুজাত মিয়া ফোন না ধরলেও, তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানান। তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন। বিএনপির দুই প্রার্থীর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিবাদ নিরসন না করলে আগামী নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া, যার প্রভাব ও পরিচিতি রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। এই নির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির জন্য একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ফলে তৃতীয় প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপি'র এই গৃহকোন্দল নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
What's Your Reaction?