রোজ এক গ্লাস কমলার রস খাওয়ার যত উপকারিতা

সকালের নাশতায় কি আপনার কমলার রস পছন্দ? অনেকেরই এই অভ্যাস আছে, তবে বছরের কিছু সময় ধরে কমলার রসকে ‘মিষ্টি’ বলে সতর্ক করা হয়। আসলে কমলার রসে থাকা চিনি দ্রুত রক্তে যায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা ওবেসিটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এটাই সাধারণ ধারণা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, যদিও এতে চিনি থাকে, সাপ্তাহিক বা দৈনন্দিন একটি গ্লাস কমলার রস শরীরের জন্য অনেক উপকারী হতে পারে। কমলার রস নিয়ে ভুল ধারণা গবেষকরা লক্ষ করেছেন, যারা প্রচুর সাইট্রাস ফল খায়, তারা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে কম থাকে। কিন্তু এই গবেষণাগুলো ফল খাওয়ার ওপর ভিত্তি করে করা, রস খাওয়ার নয়। ফল খাওয়া এবং রস খাওয়ার প্রভাব আলাদা। যেমন, দু-তিনটি কমলা খেতে সময় লাগে—চিবানো, গিলে ফেলা; কিন্তু সেই একই পরিমাণ কমলার রস মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়ে যায়। ফলে রসের চিনি দ্রুত রক্তে চলে যায়, যেখানে পুরো কমলা খেলে চিনি ধীরে ধীরে শোষিত হয়। ফলে, স্বাভাবিকভাবে সুস্থ মানুষের জন্য এটি বড় সমস্যা নয়, কারণ শরীর ইনসুলিন ছাড়ে এবং রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য হয়তো বেশি উপকারী নাও হতে পারে। হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ

রোজ এক গ্লাস কমলার রস খাওয়ার যত উপকারিতা
সকালের নাশতায় কি আপনার কমলার রস পছন্দ? অনেকেরই এই অভ্যাস আছে, তবে বছরের কিছু সময় ধরে কমলার রসকে ‘মিষ্টি’ বলে সতর্ক করা হয়। আসলে কমলার রসে থাকা চিনি দ্রুত রক্তে যায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা ওবেসিটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এটাই সাধারণ ধারণা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, যদিও এতে চিনি থাকে, সাপ্তাহিক বা দৈনন্দিন একটি গ্লাস কমলার রস শরীরের জন্য অনেক উপকারী হতে পারে। কমলার রস নিয়ে ভুল ধারণা গবেষকরা লক্ষ করেছেন, যারা প্রচুর সাইট্রাস ফল খায়, তারা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে কম থাকে। কিন্তু এই গবেষণাগুলো ফল খাওয়ার ওপর ভিত্তি করে করা, রস খাওয়ার নয়। ফল খাওয়া এবং রস খাওয়ার প্রভাব আলাদা। যেমন, দু-তিনটি কমলা খেতে সময় লাগে—চিবানো, গিলে ফেলা; কিন্তু সেই একই পরিমাণ কমলার রস মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়ে যায়। ফলে রসের চিনি দ্রুত রক্তে চলে যায়, যেখানে পুরো কমলা খেলে চিনি ধীরে ধীরে শোষিত হয়। ফলে, স্বাভাবিকভাবে সুস্থ মানুষের জন্য এটি বড় সমস্যা নয়, কারণ শরীর ইনসুলিন ছাড়ে এবং রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য হয়তো বেশি উপকারী নাও হতে পারে। হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্কের জন্য উপকারিতা একটি গবেষণা দেখিয়েছে, প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার কমলার রস পান করলে রক্তের শর্করার মাত্রা কমে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ কমে—সবই হৃদরোগ কমানোর জন্য সহায়ক। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন একটি গ্লাস কমলার রস পান করলে রক্তচাপ কমে এবং ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বেড়ে। কমলার রস শুধু হৃদরোগের জন্য নয়, মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। এক গবেষণায় ৩০-৪৫ বছরের ২৪ জন পুরুষকে ২৪০ মিলিলিটার কমলার রস খাওয়ানো হয়। পরীক্ষার ফল দেখিয়েছে, কমলার রস খাওয়ার পর তাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ার পর হ্রাস পেয়েছিল। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও কমলার রস মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। ৬০-৮১ বছর বয়সী ৩৭ জনের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই গ্লাস কমলার রস খাওয়ার পর তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কমলার রসের পুষ্টিগুণ কমলায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং ত্বকের কলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ফোলেট, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি১ রয়েছে। কমলার রসের স্বাস্থ্যগুণের পিছনে মূলত ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো রক্তের প্রবাহ ভালো রাখে, প্রদাহ কমায় এবং কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে কমলায় থাকা হেসপেরিডিন নামক ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তচাপ কমাতে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক যারা প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার কমলার রস পান করেছিল, তাদের রক্তের জিনগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে, যা প্রদাহ এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। কোন কমলার রস স্বাস্থ্যকর? পুরো কমলা খাওয়া সর্বোত্তম। এতে ফাইবার এবং ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে যা রসের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে রসই যদি পান করতে হয়, তাহলে তাজা কমলার রস, যা নিজে বা রেস্টুরেন্টে তৈরি, বেশি উপকারী। দোকানে পাওয়া শিল্পজাত রসের তুলনায় তাজা রসের পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। ডাক্তাররা বলছেন, ১০০% কমলার রস (যেখানে অতিরিক্ত চিনি যোগ নেই) সপ্তাহে তিন-চারবার খাওয়া স্বাভাবিক মানুষের জন্য নিরাপদ। এক গ্লাস কমলার রস শুধু স্বাদই বাড়ায় না, স্বাস্থ্যেও চমকপ্রদ প্রভাব ফেলে। এটি হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, রক্তচাপ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও পুরো কমলা সবচেয়ে ভালো, তাজা কমলার রসও নিয়মিত এবং সীমিত পরিমাণে পান করলে আপনাকে সুস্থ রাখবে এবং সকালের নাশতায় আনন্দ যোগ করবে। সূত্র : বিবিসি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow