রোড রোলার প্রশিক্ষণে সুইডেন সফরের খবর ভিত্তিহীন। চসিক মেয়র

রোড রোলারের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) প্রশিক্ষণের নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পাঁচ কর্মকর্তা সুইডেন যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে মুখ খুলেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, চসিকের কোনো কর্মকর্তা সুইডেন বা অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন না। এমন কোনো সফরের অনুমতিও তিনি দেবেন না। কালবেলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন না। আমি কাউকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেব না। সুইডেন বা অন্য কোনো দেশে চসিকের কর্মকর্তাদের যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। এসব প্রচারণা বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে অযথা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের সংশোধিত এক সরকারি অনুমোদনের আলোকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচ কর্মকর্তা আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের জ

রোড রোলার প্রশিক্ষণে সুইডেন সফরের খবর ভিত্তিহীন। চসিক মেয়র

রোড রোলারের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) প্রশিক্ষণের নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পাঁচ কর্মকর্তা সুইডেন যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে মুখ খুলেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, চসিকের কোনো কর্মকর্তা সুইডেন বা অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন না। এমন কোনো সফরের অনুমতিও তিনি দেবেন না।

কালবেলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন না। আমি কাউকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেব না। সুইডেন বা অন্য কোনো দেশে চসিকের কর্মকর্তাদের যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। এসব প্রচারণা বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে অযথা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের সংশোধিত এক সরকারি অনুমোদনের আলোকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচ কর্মকর্তা আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য সুইডেন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাবল ড্রাম রোড রোলারের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (ওঅ্যান্ডএম) প্রশিক্ষণের জন্য এ সফরের ব্যয় বহন করবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রকাশিত তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়, চসিকের প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ডাবল ড্রাম রোড রোলার কেনার কার্যাদেশ ২০২৫ সালের ৩ জুলাই পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কবির আহমেদ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহের পর কর্মস্থলে একজন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (মেকানিক্যাল) এবং প্রতিটি রোড রোলারের জন্য একজন চালককে একদিনের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে উৎপাদনকারী দেশ থেকে যন্ত্রপাতি পাঠানোর আগে ক্রেতা কর্তৃপক্ষের মনোনীত তিনজন কারিগরি কর্মকর্তার প্রি-শিপমেন্ট পরিদর্শনের বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রোড রোলারগুলো দেশে পৌঁছে এবং ৯ জানুয়ারি সেগুলো চসিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১১ মার্চ যন্ত্রগুলো সিটি করপোরেশনের স্টকে অন্তর্ভুক্ত হয়। যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহারের কয়েক মাস পর বিদেশে প্রশিক্ষণের আয়োজন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সুইডেন সফরের একটি অনুমোদন দেওয়া হলেও সে সময় সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সফরটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে সেই অনুমোদন সংশোধন করে ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য সফরকারীদের তালিকায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব মো. মনিরুজ্জামান, চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ ইমরান হোছাইন খোকার নাম উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব তথ্য প্রকাশের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চসিকের কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন না। তার ভাষ্য, সুইডেন সফরের খবরের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং এটি চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি অপচেষ্টা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow