রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো সহায়তা ঘোষণা

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জরুরি মানবিক সহায়তা, সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো অনুদান ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যৌথভাবে জরুরি এই সহায়তা ও অংশীদারত্ব নবায়নের কথা জানিয়েছে ইইউ ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের আগে এই ঘোষণা দেওয়া হলো। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইইউর আগের মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তার ধারাবাহিকতায় এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্য উপকৃত হবেন। এই তহবিলের বড় অংশ ব্যয় হবে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, কাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে। বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তাই এখন শুধু জরুরি মানবিক সহায়তা

রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো সহায়তা ঘোষণা

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জরুরি মানবিক সহায়তা, সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো অনুদান ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যৌথভাবে জরুরি এই সহায়তা ও অংশীদারত্ব নবায়নের কথা জানিয়েছে ইইউ ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের আগে এই ঘোষণা দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইইউর আগের মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তার ধারাবাহিকতায় এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্য উপকৃত হবেন। এই তহবিলের বড় অংশ ব্যয় হবে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, কাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তাই এখন শুধু জরুরি মানবিক সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে।’

ইইউ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের মর্যাদা রক্ষা করা, তাদের সক্ষম করে তোলা এবং সুযোগ এলে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরার জন্য প্রস্তুত করা।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তা তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।’

সংস্থা দুটি জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প, সীমিত সম্পদ এবং দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনের কারণে রোহিঙ্গারা চরম ঝুঁকিতে আছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মানব পাচার এবং শোষণের আশঙ্কায় থাকেন। এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ফলে নারী ও শিশুদের জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য ক্যাম্পের বাইরে যেতে হবে না, যা তাদের নিরাপত্তা বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বনায়ন ধ্বংসের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করবে।

চলতি ২০২৬ সালের রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার, মানবিক সংস্থা এবং দাতাদের সঙ্গে কাজ করছে ইউএনএইচসিআর। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন আগতসহ ১২ লাখ রোহিঙ্গার জরুরি চাহিদা পূরণে বৈশ্বিক দাতাদের কাছে ৭১ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল চেয়েছে সংস্থাটি। মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জরুরি সেবা চালু রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই উদার মানবিক সহায়তা বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow