লিচুর ভারে ভেঙে পড়ছে ডাল, ঈশ্বরদীতে রেকর্ড ফলন
• আগে যে গাছে হতো ৩ হাজার লিচু, সেখানে এবার ১০ হাজারের বেশি• ৭০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা • ফলন বেশি হওয়ায় দাম কম লিচুর রঙে রঙিন এখন পাবনার ঈশ্বরদী। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পাকা সড়ক, মেঠোপথের দুই ধারে মাইলের পর মাইলজুড়ে দেখা মিলছে শুধু লিচু আর লিচু। এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষি ও বাগান মালিকদের দাবি, অতীতে কখনো ঈশ্বরদীতে লিচুর এত বেশি ফলন হয়নি। যে গাছে কখনো তিন হাজারের বেশি লিচুর ফলন হয়নি, এবার সে গাছে ১০ হাজার লিচু ছাড়িয়ে গেছে। লিচুর ওজন সইতে না পেরে ভেঙে পড়ছে ডাল। উপজেলায় ৭০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন লিচু চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ঈশ্বরদী ‘লিচুর রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত। এখানকার রসালো লিচুর কদর রয়েছে দেশজুড়ে। উপজেলা কৃষি বিভাগের জরিপ অনুসারে, এখানে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাণিজ্যিক বাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। পাশাপাশি সারা উপজেলাতেই বসতবাড়ির আশপাশেও রয়েছে প্রচুর লিচুগাছ। লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরদীর লিচুবাগানগুলোতে বিপুল কর্মচাঞ্চল্য। সবচেয়ে বেশি বাগান উপজেলার জয়নগর, মান
• আগে যে গাছে হতো ৩ হাজার লিচু, সেখানে এবার ১০ হাজারের বেশি
• ৭০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা
• ফলন বেশি হওয়ায় দাম কম
লিচুর রঙে রঙিন এখন পাবনার ঈশ্বরদী। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পাকা সড়ক, মেঠোপথের দুই ধারে মাইলের পর মাইলজুড়ে দেখা মিলছে শুধু লিচু আর লিচু। এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
চাষি ও বাগান মালিকদের দাবি, অতীতে কখনো ঈশ্বরদীতে লিচুর এত বেশি ফলন হয়নি। যে গাছে কখনো তিন হাজারের বেশি লিচুর ফলন হয়নি, এবার সে গাছে ১০ হাজার লিচু ছাড়িয়ে গেছে। লিচুর ওজন সইতে না পেরে ভেঙে পড়ছে ডাল। উপজেলায় ৭০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন লিচু চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
ঈশ্বরদী ‘লিচুর রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত। এখানকার রসালো লিচুর কদর রয়েছে দেশজুড়ে। উপজেলা কৃষি বিভাগের জরিপ অনুসারে, এখানে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাণিজ্যিক বাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। পাশাপাশি সারা উপজেলাতেই বসতবাড়ির আশপাশেও রয়েছে প্রচুর লিচুগাছ। লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরদীর লিচুবাগানগুলোতে বিপুল কর্মচাঞ্চল্য। সবচেয়ে বেশি বাগান উপজেলার জয়নগর, মানিকনগর, মিরকামারি, আওতাপাড়া, বড়ইচরা, জগন্নাথপুর, মহাদেবপুর, বাঁশেরবাদা এলাকায়। এখানে মোজাফ্ফর জাতের দেশি লিচু, বোম্বাই, চায়না থ্রি, কদমি জাতের লিচু বেশি চাষ হয়। এখন দেশি লিচুর পাশাপাশি বোম্বাই জাতের লিচু সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
‘লিচু চাষিদের এবার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। তারা বেশ কয়েকবছর ধরে আশানুরূপ ফলন পাননি। বিশেষ করে গতবছর লিচু চাষিদের ফলন বিপর্যয় হয়েছিল। এবার ব্যাপক ফলনের কারণে উপজেলাজুড়ে মচ্ছব শুরু হয়েছে। উৎপাদন অতীতের যেকোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। চাষিরা যদি লিচু সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে পারেন, তাহলে তারা লাভবান হবেন’
উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল। তিনি লিচু চাষে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন কৃষক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘লিচু চাষিদের এবার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। তারা বেশ কয়েকবছর ধরে আশানুরূপ ফলন পাননি। বিশেষ করে গতবছর লিচু চাষিদের ফলন বিপর্যয় হয়েছিল। এবার ব্যাপক ফলনের কারণে উপজেলাজুড়ে মচ্ছব শুরু হয়েছে। উৎপাদন অতীতের যেকোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। চাষিরা যদি লিচু সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে পারেন, তাহলে তারা লাভবান হবেন।’
আরও পড়ুন:
বাজারে অপরিপক্ব লিচুর ছড়াছড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা
লিচু খেতে চাইলে আগে সাবধান হন
লিচুর দাম ভালো, লাভবান মেহেরপুরের চাষিরা
মিষ্টি ও রসালো লিচু কিনতে যেসব ভুল করবেন না
মঙ্গলবাড়িয়ার রসালো লিচু ১২ কোটি টাকা বিক্রির আশা, জিআই আবেদন
পাকা ও মিষ্টি লিচু চেনার ৯ কৌশল
উপজেলার জয়নগর গ্রামের লিচু চাষি কামরুজ্জামান স্বপন স্বপন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল লিচু। উপজেলার সাহাপুর ও সলিমপুর ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। যদি সঠিকভাবে লিচু বাজারজাত করা সম্ভব হয়, তাহলে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হবেন।’
মানিকনগর গ্রামের লিচু চাষি মোস্তফা জামান নয়ন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের লিচুর চাহিদা বেশিরভাগ পূরণ হয় ঈশ্বরদীর লিচুতে। গতবছর উৎপাদন খুব কম ছিল। এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে।’
একই গ্রামের পূর্ব স্কুলপাড়া এলাকার লিচু চাষি জহুরুল ইসলামও জানালেন এবার লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে চাষিরা লাভবান হবেন।
‘প্রায় ১৫ বছর ধরে ঈশ্বরদীতে লিচুর ব্যবসা করছি। লিচু মৌসুম এলেই এখানে চলে আসি। এবার যে পরিমাণ লিচুর ফলন হয়েছে, আগে কখনো এমন ফলন দেখিনি। এবার ফলন বেশি হওয়ায় লিচুর দাম কিছুটা কম’—ব্যবসায়ী
উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে কথা হয় লিচু ব্যবসায়ী যশোরের হাসেম আলীর সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে ঈশ্বরদীতে লিচুর ব্যবসা করছি। লিচুর মৌসুম এলেই এখানে চলে আসি। এবার যে পরিমাণ লিচুর ফলন হয়েছে, আগে কখনো এমন ফলন দেখিনি। এবার ফলন বেশি হওয়ায় লিচুর দাম কিছুটা কম।’
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, উপজেলার তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। গতবছর লিচু কম হয়েছিল। এবার ফলন গতবছরের তুলনায় তিনগুণ হবে। লিচুর ব্যাপক ফলনের কারণে ৭০০ কোটি টাকার ওপরে লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসআর/এমএস
What's Your Reaction?