লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা দুই বড় দলের ‘ইনসিকুরিটি’: মাহফুজ আলম

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা দুই বড় দলের ‘ইনসিকুরিটি’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ‘কৌন বনেগা লীগকা বাপ’—এমন প্রশ্ন রেখে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকুরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? '৮৬ আর '৯৬ এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা/সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের '৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত। স্মৃতি ভয়ের উৎস বটে!’ তিনি আরও লেখেন, ‘আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে ‘‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’’ করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে।’ তবে তার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেই প্রজন্মের জন্য, যারা আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদের’ বিরুদ্ধে লড়েছেন। এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা লেখেন, ‘আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে জাম

লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা দুই বড় দলের ‘ইনসিকুরিটি’: মাহফুজ আলম

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা দুই বড় দলের ‘ইনসিকুরিটি’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ‘কৌন বনেগা লীগকা বাপ’—এমন প্রশ্ন রেখে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকুরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? '৮৬ আর '৯৬ এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা/সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের '৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত। স্মৃতি ভয়ের উৎস বটে!’

তিনি আরও লেখেন, ‘আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে ‘‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’’ করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে।’

তবে তার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেই প্রজন্মের জন্য, যারা আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদের’ বিরুদ্ধে লড়েছেন। এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা লেখেন, ‘আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে জামায়াত জোটে যাওয়ায়। নগদ যা লাভ হয়েছিল, সেটাকেও বড় করার কোনো চিহ্ন দেখা গেল না।’

‘দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে’— উল্লেখ করে মাহফুজ পোস্টে বলেন, ‘রুটিটা বড় করেন। আপনাদের তাকদ আছে এ জাতিকে, গ্লোবাল সাউথকে লিড দেয়ার। সেইটা করেন। যার যার পার্টি, দোকান, ফেরকা, তরিকা থেকে সংগঠিত হোন। প্রতিষ্ঠান গড়ুন। স্বচ্ছল হোন।’

নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে নয় শুধু, সমাজেও প্রভাব তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি লড়াই ও সংহতির পাটাতন গড়ে তুলুন। বড়দের আস্কারা-উসকানিতে অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে। বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে।

‘সঙ্গে ছোটদের কোরাম আর মতাদর্শ ভিত্তিক একপাক্ষিক বয়ান ও সক্রিয় ছিল, আছে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ‘৭০ এর দশকে, ‘৯০ এর দশকেও ঘটেছে,’ যোগ করেন মাহফুজ আলম।

‘লড়াইটা প্রজন্মের’—উল্লেখ পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবেনা। সিম্পল কথা। এটা খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করুন। যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা, তরিকা বানান, সমস্যা নাই। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। মতাদর্শের তর্ক তো হবেই, হোক। কিন্তু, কেবলা রাখেন জুলাই আর এন্টি-ফ্যাসিজম।’

সবশেষে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, `আমরা ফ্যাসিস্ট লীগ তাড়াইছি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। সেই সাহসের সঙ্গে এখন সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ কোন ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow