শখের আঙুর চাষে শিক্ষকের বাজিমাত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। সময়ের ব্যবধানে তার সেই শখের বাগানই এখন তাকে পরিণত করেছে এক সফল উদ্যোক্তায়। বাগানের মাচায় মাচায় ঝুলছে বিভিন্ন জাত ও রঙের থোকায় থোকায় আঙুর। প্রত্যন্ত গ্রামে আঙুরের এমন বাম্পার ফলন স্থানীয় তরুণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। সফল এই উদ্যোক্তার নাম মো. এমদাদুল হক রাজা। তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পূর্ব বাছহাটির বাসিন্দা। পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষির প্রতি তার রয়েছে গভীর মমত্ববোধ। সেই ভালোবাসাই একসময় তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় কুড়িগ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে। মূলত তার অনুপ্রেরণাতেই আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন শিক্ষক রাজা। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে মাত্র ৭ শতক জমিতে বাইকুনুর, একোলো, গ্রিন লং, জয় সীডলেস, ডিকসন, ভ্যালেজ, ট্রান্সফিগারেশন, অ্যাকাডেমিক, লোরাস, ক্রিসমন সীডলেস, মানিক চমন, এসএসএন, রেবেকা ও জেসমিনসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫০টি আঙুর গাছ লাগিয়েছেন কৃষি বিষয়ের এই শিক্ষক। বাগানটির নাম দিয়েছেন ‘কৃষিবিদ আঙুর বাগান’। চার বছর আগে ধাপে ধাপে এসব চারা রোপণ করা হলেও বাইকুনুর,

শখের আঙুর চাষে শিক্ষকের বাজিমাত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। সময়ের ব্যবধানে তার সেই শখের বাগানই এখন তাকে পরিণত করেছে এক সফল উদ্যোক্তায়। বাগানের মাচায় মাচায় ঝুলছে বিভিন্ন জাত ও রঙের থোকায় থোকায় আঙুর। প্রত্যন্ত গ্রামে আঙুরের এমন বাম্পার ফলন স্থানীয় তরুণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে।

সফল এই উদ্যোক্তার নাম মো. এমদাদুল হক রাজা। তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পূর্ব বাছহাটির বাসিন্দা। পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষির প্রতি তার রয়েছে গভীর মমত্ববোধ। সেই ভালোবাসাই একসময় তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় কুড়িগ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে। মূলত তার অনুপ্রেরণাতেই আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন শিক্ষক রাজা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে মাত্র ৭ শতক জমিতে বাইকুনুর, একোলো, গ্রিন লং, জয় সীডলেস, ডিকসন, ভ্যালেজ, ট্রান্সফিগারেশন, অ্যাকাডেমিক, লোরাস, ক্রিসমন সীডলেস, মানিক চমন, এসএসএন, রেবেকা ও জেসমিনসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫০টি আঙুর গাছ লাগিয়েছেন কৃষি বিষয়ের এই শিক্ষক। বাগানটির নাম দিয়েছেন ‘কৃষিবিদ আঙুর বাগান’। চার বছর আগে ধাপে ধাপে এসব চারা রোপণ করা হলেও বাইকুনুর, গ্রিন লং, ভ্যালেজ এবং প্রেসটিজ জাতের গাছে গত বছর থেকে ফল ধরা শুরু হয়েছে। সুরক্ষার জন্য বাগানের ওপর ও চারপাশে জালের আচ্ছাদন দেওয়া হয়েছে।

বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে মাচার নিচে ঝুলে থাকা হালকা সবুজ, হালকা গোলাপী ও জাম রঙের আঙুরের থোকা। একেকটি থোকায় ৪০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত আঙুর ধরেছে। বাগান মালিকের আশা, প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০-১৫ কেজি আঙুর পাওয়া যাবে। বাজারে পাওয়া আমদানিকৃত আঙুরের চেয়ে দেশি মাটিতে উৎপাদিত এই আঙুরের স্বাদ ও গুণগত মান দারুণ হওয়ায় এর চাহিদাও ব্যাপক।

সড়কের পাশে বাগান হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মানুষ ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন রাজার এই আঙুর বাগান দেখতে। অনেকেই পরখ করে দেখছেন আঙুরের স্বাদ।

বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, আমাদের এলাকাতেও যে এত সুন্দর আঙুর চাষ সম্ভব, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বাজারের কেনা আঙুরের চেয়ে এই বাগানের আঙুর অনেক বেশি মিষ্টি ও সুস্বাদু! 

উদ্যোক্তা এমদাদুল হক রাজা বলেন, কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করায় কৃষির প্রতি আমার ঝোঁকটা একটু বেশি, বিশেষ করে আঙুর চাষের প্রতি। ৩-৪ বছরের চেষ্টায় এখন আমি সফলতার মুখ দেখছি। আমার বাগানে ২৬ ধরনের আঙুরের চারা রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ান জাতের বাইকুনুরসহ গ্রিন লং, ভ্যালেজ এবং প্রেসটিজ গাছে গত বছর থেকে ফলন আসছে। এবার ফলন আরও ভালো হয়েছে। একটি গাছ অন্তত ২০-৩০ বছর ফল দেয়। সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করায় বাজারের আঙুরের চেয়ে এটি অনেক বেশি মিষ্টি। বাকি জাতের গাছগুলো ছোট হওয়ায় আশা করছি আগামী বছর সেগুলোতেও ফল আসবে। এ বছর বাগান থেকে অন্তত আড়াই-তিন মণ আঙুর মিলবে বলে আশা করছি, যার প্রতি কেজির বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ টাকা। 

বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি আঙুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাণিজ্যিকভাবে চাষ সম্প্রসারণের জন্য আমি নিজেই এখন চারা উৎপাদন করছি। নতুন কেউ যদি আঙুর চাষে উদ্যোক্তা হতে চান, আমি তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বাগানটি পরিদর্শন শেষে জানান, তার বাগানে লাগানো ২২টি জাতের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪টি জাতে ফলন এসেছে। আঙুরগুলো সত্যিই ভীষণ সুমিষ্ট। এই এলাকার মাটি আঙুর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। নতুন কেউ যদি বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষে এগিয়ে আসতে চায়, তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চারা নির্বাচন ও প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow