শবেবরাতে জাকাত দেওয়ার বিধান
লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা শবেবরাত মুসলমানদের জন্য ক্ষমা ও কল্যাণের এক বিশেষ রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন, ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন এবং রহমত বর্ষণ করেন। এই রাত সম্পর্কে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সেজদা করেন। এভাবে দীর্ঘ সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা (রা.) এর ধারণা হয়, রাসুলাল্লাহ (সা.) হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন। হজরত আয়েশা (রা.) তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্য রাসুলাল্লাহ (সা.) বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ধরে নাড়া দেন। তাতে রাসুলাল্লাহ (সা.) আঙুল নাড়িয়ে সাড়া দেন। এরপর রাসুলাল্লাহ (সা.) সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে হজরত আয়েশা (রা.) কে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? হজরত আয়েশা (রা.) তখন উত্তরে বলেন, না, ইয়া রাসুলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘক্ষণ সেজদা করা দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্য আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জী
লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা শবেবরাত মুসলমানদের জন্য ক্ষমা ও কল্যাণের এক বিশেষ রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন, ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন এবং রহমত বর্ষণ করেন।
এই রাত সম্পর্কে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সেজদা করেন। এভাবে দীর্ঘ সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা (রা.) এর ধারণা হয়, রাসুলাল্লাহ (সা.) হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।
হজরত আয়েশা (রা.) তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্য রাসুলাল্লাহ (সা.) বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ধরে নাড়া দেন। তাতে রাসুলাল্লাহ (সা.) আঙুল নাড়িয়ে সাড়া দেন। এরপর রাসুলাল্লাহ (সা.) সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে হজরত আয়েশা (রা.) কে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন?
হজরত আয়েশা (রা.) তখন উত্তরে বলেন, না, ইয়া রাসুলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘক্ষণ সেজদা করা দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্য আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জীবিত আছেন কি না।
নবীজি তখন আয়েশাকে (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জানো, আজকের রাতটি কী রাত? আয়েশা তখন নবীজিকে বলেন, আল্লাহ ও তার রসুলই আমার অপেক্ষা ভালো জানবেন আজেকের রাতটির তাৎপর্য কী?
তখন রাসুলাল্লাহ (সা.) বললেন, আজকের রাতটি হলো অর্ধ শাবানের রাত। মহান আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দার সব প্রার্থনা মনোযোগ সহকারে শোনেন। যারা ক্ষমাপ্রার্থী তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। আর যারা অনুগ্রহপ্রার্থী তাদের অনুগ্রহ করেন, তাদের বরকত প্রদান করেন। আর যারা বিদ্বেষ পোষণকারী, তাদের ক্ষমা না করে তাদের নিজের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬)
শবে বরাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার পাশাপাশি দান-সদকা করা উত্তম। অনেকেই এ রাতে জাকাত প্রদান করেন। তবে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, শবেবরাতে জাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
কারণ, জাকাত ইসলামের পাঁচ রোকনের একটি। জাকাত ফরজ হয় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে এবং এক বছর পূর্ণ হলে। প্রত্যেক সম্পদশালী মুসলমানের অন্যতম ফরজ কর্তব্য হলো, প্রতি বছর তার বর্ধনশীল সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ দান করে দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নামাজ কায়েম কর ও জাকাত দাও এবং যে নেক আমল তোমরা নিজদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয় আল্লাহ তা দেখেন। (সুরা বাকারা: ১১০)
তাই এরজন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন বা রাত নির্ধারিত নেই। শবেবরাত, রমজান কিংবা বছরের যেকোনো সময় জাকাত দেওয়া জায়েজ। সেজন্য শবেবরাত উপলক্ষে জাকাত দেওয়া ফরজ বা বিশেষ সওয়াবের কাজ মনে করা ঠিক নয়।
What's Your Reaction?