শবেমেরাজের ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১২ শিক্ষা

মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। পরিভাষায় মেরাজ হলো, ইসলামের সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক সশরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হজরত জিবরাইল (আ.) ও হজরত মিকাইলের (আ.) সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে প্রথমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা, তারপর প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান হয়ে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ; অতঃপর রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ ও জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে ফিরে আসা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১ ) মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) জেরুজালেমে পৌঁছে পূর্ববর্তী নবীদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করেন। এরপর আসমানে আরোহণ করে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন। সেখানে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বহু সিদ্ধান্ত এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ। মেরাজের ঘটনা থেকে উম্মাহর জন্য অনেক শি

শবেমেরাজের ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১২ শিক্ষা

মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। পরিভাষায় মেরাজ হলো, ইসলামের সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক সশরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হজরত জিবরাইল (আ.) ও হজরত মিকাইলের (আ.) সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে প্রথমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা, তারপর প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান হয়ে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ; অতঃপর রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ ও জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে ফিরে আসা।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১ )

মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) জেরুজালেমে পৌঁছে পূর্ববর্তী নবীদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করেন। এরপর আসমানে আরোহণ করে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন। সেখানে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বহু সিদ্ধান্ত এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ।

মেরাজের ঘটনা থেকে উম্মাহর জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি শিক্ষা প্রকাশ করেছে ইসলামি গবেষণা ভিত্তিক পত্রিকা আল কাউসার। নিচে সেগুলা তুলে ধরা হলো।

১. আল্লাহর সত্তার ওপর পূর্ণ ও সঠিক বিশ্বাস রাখা। শিরক থেকে বিলকুল বেঁচে থাকা।

২. আল্লাহর সাথে বান্দার আবদিয়াত তথা দাসত্বের সম্পর্ক মজবুত করা।

৩. নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া। কেননা এটা মেরাজে লাভ করা উম্মতের জন্য নবীজির তোহফা। বস্তুত নামাজ এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে রবের সাথে বান্দার সম্পর্ক সুদৃঢ় ও মধুময় হতে থাকে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বান্দা যখন নামাজ পড়ে তখন সে তার রবের সাথে নিভৃতে আলাপ করে। (বোখারি : ৪০৫)

৪. সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলোর শিক্ষা ও মর্মগুলো ধারণ করা। এখানে মুমিনের ঈমানের শিরোনামগুলো সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয়েছে।

৫. আল্লাহর হক ও বান্দার হকের প্রতি যত্নশীল হওয়া।

৬. গিবত ও পরনিন্দা থেকে বেঁচে থাকা। মানুষের সম্ভ্রমহানি না করা। কাউকে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত না করা। এটা অনেক বড় কবিরা গোনাহ।

৭. শুধু লম্বা লম্বা বক্তৃতা নয়, খেয়াল করা- মানুষকে যে নসিহত করছি, আমার মাঝে তা কতটুকু আছে।

৮. জান্নাতের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া।

৯. জাহান্নামের ব্যাপারে ভীত থাকা।

১০. হাউযে কাউসারের প্রত্যাশী হওয়া।

১১. হজরত ইবরাহীম (আ.) যে দোয়ার কথা বলেছেন, এই দোয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া। দোয়াটি হলো, سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ لِلهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَر

১২. সব ধরনের গোনাহ, বিশেষ করে মদ ও গিবত থেকে বেঁচে থাকা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow