শব্দদূষণকারী মানুষের যন্ত্রণায় পাখিদেরও শান্তি নেই

মানুষের তৈরি শব্দদূষণ বিশ্বজুড়ে পাখিদের আচরণ ও প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রায় চার দশকের গবেষণা পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গাড়ি, বিমান, নির্মাণকাজ ও শহরের নানা কোলাহল পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। গবেষণাটি প্রিসেডিংস অব দ্য রয়েল সোসাইটি বি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৬০ প্রজাতির পাখি নিয়ে করা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শব্দদূষণ পাখিদের যোগাযোগ, খাবার খোঁজা, শিকারি থেকে বাঁচা ও বাসা তৈরির আচরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে প্রজননের সাফল্য কমে যাচ্ছে। পাখিরা বেঁচে থাকার জন্য শব্দের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তারা সঙ্গী খুঁজতে গান গায়, বিপদের সংকেত দিতে ডাক দেয় এবং ছানারা ক্ষুধার কথা জানান দিতে ডাক দেয়। কিন্তু আশপাশে বিকট শব্দ থাকলে তারা নিজেদেরই সংকেত ঠিকভাবে শুনতে পারে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মিলন আচরণ ব্যাহত হয়, পুরুষ পাখিরা গান বদলে ফেলে এবং মা-বাবা ও ছানার মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাটির কাছাকাছি বাসা বানানো পাখিরা প্রজননে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শহরের

শব্দদূষণকারী মানুষের যন্ত্রণায় পাখিদেরও শান্তি নেই

মানুষের তৈরি শব্দদূষণ বিশ্বজুড়ে পাখিদের আচরণ ও প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রায় চার দশকের গবেষণা পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গাড়ি, বিমান, নির্মাণকাজ ও শহরের নানা কোলাহল পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।

গবেষণাটি প্রিসেডিংস অব দ্য রয়েল সোসাইটি বি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৬০ প্রজাতির পাখি নিয়ে করা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শব্দদূষণ পাখিদের যোগাযোগ, খাবার খোঁজা, শিকারি থেকে বাঁচা ও বাসা তৈরির আচরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে প্রজননের সাফল্য কমে যাচ্ছে।

পাখিরা বেঁচে থাকার জন্য শব্দের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তারা সঙ্গী খুঁজতে গান গায়, বিপদের সংকেত দিতে ডাক দেয় এবং ছানারা ক্ষুধার কথা জানান দিতে ডাক দেয়। কিন্তু আশপাশে বিকট শব্দ থাকলে তারা নিজেদেরই সংকেত ঠিকভাবে শুনতে পারে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মিলন আচরণ ব্যাহত হয়, পুরুষ পাখিরা গান বদলে ফেলে এবং মা-বাবা ও ছানার মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাটির কাছাকাছি বাসা বানানো পাখিরা প্রজননে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শহরের পাখিদের শরীরে মানসিক চাপের হরমোন বেশি পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর তুলনায় শব্দদূষণের ক্ষতি এখনো ততটা গুরুত্ব পায়নি।

শব্দদূষণ কমানোর কিছু উপায়ের কথাও বলা হয়েছে। যেমন নতুন ধরনের নির্মাণ উপকরণ ও নকশা ব্যবহার করে শব্দ কমানো সম্ভব। গবেষকদের মতে, সচেতনতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া এখন খুব প্রয়োজন। তথ্যসূত্র : এএফপি
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow