শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগালে কি রোজা ভেঙে যাবে? জানুন

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে অনেক সময় অসুস্থতা বা শরীরের বিভিন্ন ক্ষত-যখমের কারণে ওষুধ বা মলম ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগালে কি রোজা ভেঙে যায়? বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সূক্ষ্ম বিধান রয়েছে। কারণ, রোজা ভঙ্গ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শরীরের ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশ করা। কিন্তু সব ধরনের ওষুধ বা মলম ব্যবহারে রোজা নষ্ট হয় না; বরং ক্ষতের ধরন, ওষুধ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা এবং ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর বিধান নির্ভর করে। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট আলোচনা পাওয়া যায় এবং আলেমগণ বিভিন্ন অবস্থার ভিত্তিতে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাই রোজা সহিহভাবে আদায় করতে এ মাসআলাটি জানা জরুরি, বিশেষ করে যারা অসুস্থতা বা আঘাতজনিত কারণে নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করেন তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তাহলে জেনে নিই, শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগালে রোজার অবস্থা নিয়ে কী বলছেন ফক্বিহরা- ১. মাথার এমন যখমে ওষুধ লাগালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, যা দিয়ে ওষুধ মস্তিষ্কে চলে যায়। বিশেষ প্রয়োজনে এমন স্থানে ওষুধ লাগাতে হলে পরে সে রোজা কাজা করে নিতে হবে। ২

শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগালে কি রোজা ভেঙে যাবে? জানুন

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে অনেক সময় অসুস্থতা বা শরীরের বিভিন্ন ক্ষত-যখমের কারণে ওষুধ বা মলম ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগালে কি রোজা ভেঙে যায়? বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সূক্ষ্ম বিধান রয়েছে।

কারণ, রোজা ভঙ্গ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শরীরের ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশ করা। কিন্তু সব ধরনের ওষুধ বা মলম ব্যবহারে রোজা নষ্ট হয় না; বরং ক্ষতের ধরন, ওষুধ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা এবং ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর বিধান নির্ভর করে। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট আলোচনা পাওয়া যায় এবং আলেমগণ বিভিন্ন অবস্থার ভিত্তিতে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তাই রোজা সহিহভাবে আদায় করতে এ মাসআলাটি জানা জরুরি, বিশেষ করে যারা অসুস্থতা বা আঘাতজনিত কারণে নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করেন তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

চলুন তাহলে জেনে নিই, শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগালে রোজার অবস্থা নিয়ে কী বলছেন ফক্বিহরা-

১. মাথার এমন যখমে ওষুধ লাগালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, যা দিয়ে ওষুধ মস্তিষ্কে চলে যায়। বিশেষ প্রয়োজনে এমন স্থানে ওষুধ লাগাতে হলে পরে সে রোজা কাজা করে নিতে হবে।

২.  পেটের এমন ক্ষতে ওষুধ লাগালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, যা দিয়ে ওষুধ পেটের ভেতর চলে যায়। বিশেষ প্রয়োজনে এমন ক্ষতে ওষুধ লাগালে পরে সে রোযার কাযা করে নিতে হবে।

৩. নাকে ওষুধ বা পানি দিলে তা যদি খাদ্যনালিতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

৪.  গুহ্যদেশের ভেতর ওষুধ বা পানি ইত্যাদি গেলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত,
ذكر عنده الوضوء من الطعام، قال الأعمش مرة والحجامة للصائم فقال إنما الوضوء مما يخرج وليس مما يدخل، وإنما الفطر مما دخل وليس مما خرج.

শরীর থেকে (কোনো কিছু) বের হলে অজু করতে হয়, প্রবেশ করলে নয়। পক্ষান্তরে রোজা এর উল্টো। রোজার ক্ষেত্রে কোনো কিছু শরীরে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়, বের হলে নয় (তবে বীর্যপাতের প্রসঙ্গটি ভিন্ন)। (সুনানে কুবরা ও বায়হাকি : ৪/২৬১)

উৎস : মাসিক আল কাউসার

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow