শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষককে মারধর সহকারী শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল

‎শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকে মারধর ও লাঞ্চিতের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারধর, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সখিপুর থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন আলী আসাদ মিয়া। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগ রয়েছে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেরিতে আসেন এবং প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সবশেষ গত ২ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওই দিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয়

শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষককে মারধর সহকারী শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল

‎শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকে মারধর ও লাঞ্চিতের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারধর, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সখিপুর থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন আলী আসাদ মিয়া। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগ রয়েছে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেরিতে আসেন এবং প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সবশেষ গত ২ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওই দিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় প্রধান শিক্ষক আসাদ তাকে ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন, গলা চেপে ধরেন এবং মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক ‎আলী আসাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে সময় মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। আমি তাকে অনেকবার অবহিত করেছি। গত ‎বৃহস্পতিবার তিনি ছুটি চাইলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় তাকে ছুটি দেইনি। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হঠাৎ করেই আমাকে মারধর শুরু করেন। আমি বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিহিত করে থানা ও ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন,

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন এবং এর জেরে তাঁর সংসার দুবার ভেঙেছে। প্রধান শিক্ষক তাঁর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মারধরের দিনের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি সকালে ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তা মঞ্জুর করেননি। তাঁর ধারণা, প্রধান শিক্ষক ভেবেছিলেন তিনি ছুটি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোথাও অভিযোগ করতে যাবেন।

তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষক আমার স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করিয়েছেন। গত দেড় বছর ধরে আমি সেই মামলা পরিচালনা করছি।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে ‎ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow