শহীদদের তালিকা প্রকাশে ১ যুগ লাগার কারণ জানালেন হেফাজত নেতা

রাজধানীর শাপলা চত্বরের ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে অবশেষে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৯৩ জন শহীদ কর্মীর একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরের ৪ মে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। দেশের ইতিহাসের অন্যতম নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে নিহতদের তালিকা প্রকাশে কেন এত দীর্ঘ সময় লেগেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে এবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী নানা কারণ তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আলেম-উলামাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরকারের পক্ষ হয়ে কঠোর ভূমিকা পালন করেন এবং নিহতদের পরিবারগুলোকেও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের জানাজা পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেও জানাজা আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিকল্প স্থানে জানাজা সম্পন্ন করতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, মরদেহ দাফনের আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ছিল এবং সীমিত সংখ্যক স্বজন উপস্থি

শহীদদের তালিকা প্রকাশে ১ যুগ লাগার কারণ জানালেন হেফাজত নেতা

রাজধানীর শাপলা চত্বরের ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে অবশেষে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৯৩ জন শহীদ কর্মীর একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরের ৪ মে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দেশের ইতিহাসের অন্যতম নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে নিহতদের তালিকা প্রকাশে কেন এত দীর্ঘ সময় লেগেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে এবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী নানা কারণ তুলে ধরেছেন।

সম্প্রতি দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আলেম-উলামাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরকারের পক্ষ হয়ে কঠোর ভূমিকা পালন করেন এবং নিহতদের পরিবারগুলোকেও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের জানাজা পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেও জানাজা আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিকল্প স্থানে জানাজা সম্পন্ন করতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, মরদেহ দাফনের আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ছিল এবং সীমিত সংখ্যক স্বজন উপস্থিত থেকে দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে।

আজিজুল হক বলেন, নিহতদের তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্টদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের চেষ্টাও ব্যাহত হয়। তার অভিযোগ, বিষয়টি যাতে সামনে না আসে এবং ইতিহাস থেকে মুছে যায়, সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি ‘কেউ নিহত হয়নি’ বলেও সরকারি পর্যায় থেকে দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব কারণে দীর্ঘ সময়েও তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তৎকালীন সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলান তালিকা প্রণয়নের কারণে শাস্তির মুখে পড়লেও হেফাজত কেন পারেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হয়েও তারা শাস্তি পেয়েছে। সে তুলনায় হেফাজতের মতো সংগঠনের পক্ষে তা আরও কঠিন ছিল। তার দাবি, সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা হয়েছে এবং হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

প্রকাশিত তালিকায় ৯৩ জনের নাম থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, অনেক পরিবার এখনো ভয়ের কারণে বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা দেন তিনি।

ইসলামাবাদী আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে অজ্ঞাতপরিচয় লাশ দাফনের তথ্য উঠে এসেছে। এসব লাশের একটি অংশ ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে বলেও জানান তিনি।

মোট নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আজিজুল হক বলেন, তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে এবং এটি এখনও পরিপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, এক যুগ আগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার বিচার চেয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল হক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow