শান্তি আলোচনায় যেভাবে ইরানি নেতাদের হত্যার ছক এঁকেছিল ইসরায়েল

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ৪০ দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সময় ইসরায়েল সেখানে উপস্থিত ইরানের শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে জানা গেছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন হামলা বাস্তবায়িত হলে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে গিয়ে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শেষে ইরানে ফেরার পথে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা আলোচনার প্রক্রিয়া ভেঙে দিতে পারে এবং নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা তারা প্রকাশ করেছিলেন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র

শান্তি আলোচনায় যেভাবে ইরানি নেতাদের হত্যার ছক এঁকেছিল ইসরায়েল

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ৪০ দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সময় ইসরায়েল সেখানে উপস্থিত ইরানের শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে জানা গেছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন হামলা বাস্তবায়িত হলে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে গিয়ে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শেষে ইরানে ফেরার পথে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা আলোচনার প্রক্রিয়া ভেঙে দিতে পারে এবং নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা তারা প্রকাশ করেছিলেন।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ সফরে গেলে তার বহরকে পাকিস্তান যুদ্ধবিমান দিয়ে নিরাপত্তা দেয় বলে জানা যায়।

ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পথে গালিবাফের বহনের ক্রুরা গোয়েন্দা তথ্য পান যে ইসরায়েল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে ইরাক সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিম দিক থেকে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে বলে তথ্য আসে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানটি জরুরি অবতরণ করে মাশহাদে। সেখান থেকে গালিবাফসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় আট ঘণ্টা সড়কপথে তেহরানে ফিরে যান।

গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি, যিনি ওই সফরে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ইরানি আইন প্রণেতা মোহসেন জাঙ্গানেহ এপ্রিলে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গালিবাফ, আরাগচি এবং আলোচক দলের অন্য সদস্যরা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি জেনেও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, প্রকৃত আত্মত্যাগ।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোলেও ইসরায়েল সম্ভাব্য সমঝোতাকে যথেষ্ট মনে করেনি। এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানে শাসন পরিবর্তন, তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

আর যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাক এবং সে কারণেই আলোচনা অব্যাহত ছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow