শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে এইচএসসি পরীক্ষার হলে বৈশাখী

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ১৮ বছর বয়সী বৈশাখী খাতুন। সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা স্বাভাবিকভাবে হাঁটার ক্ষমতা তার নেই। হাঁটার সময় দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে বেঁকে যায়। প্রতি কদম ফেলার সময় মনে হয়, এই বুঝি পড়ে গেলেন। এভাবে এঁকেবেঁকে, প্রচণ্ড কষ্ট নিয়ে কেটেছে তার স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা পরিবারের চরম দারিদ্র্য—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি অদম্য বৈশাখীকে। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এবার অংশ নিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। বৈশাখী খাতুন নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ভ্যানচালক মো. মন্নু মোল্যা ও ডালিম বেগম দম্পতির মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর আগে মাইজপাড়া কেডিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন বৈশাখী খাতুন। জানা গেছে, বৈশাখী শুধু শারীরিক প্রতিবন্ধকতারই শিকার নয়, পারিবারিকভাবে অভাব আর দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। তাদের সংসার চলে অভাব-অনটনের জাঁতাকলের মধ্য দিয়ে। বৈশাখীর পিতা

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে এইচএসসি পরীক্ষার হলে বৈশাখী

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ১৮ বছর বয়সী বৈশাখী খাতুন। সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা স্বাভাবিকভাবে হাঁটার ক্ষমতা তার নেই। হাঁটার সময় দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে বেঁকে যায়। প্রতি কদম ফেলার সময় মনে হয়, এই বুঝি পড়ে গেলেন। এভাবে এঁকেবেঁকে, প্রচণ্ড কষ্ট নিয়ে কেটেছে তার স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা পরিবারের চরম দারিদ্র্য—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি অদম্য বৈশাখীকে। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এবার অংশ নিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়।

বৈশাখী খাতুন নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ভ্যানচালক মো. মন্নু মোল্যা ও ডালিম বেগম দম্পতির মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর আগে মাইজপাড়া কেডিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন বৈশাখী খাতুন।

জানা গেছে, বৈশাখী শুধু শারীরিক প্রতিবন্ধকতারই শিকার নয়, পারিবারিকভাবে অভাব আর দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। তাদের সংসার চলে অভাব-অনটনের জাঁতাকলের মধ্য দিয়ে।

বৈশাখীর পিতা মো. মন্নু মোল্যা বলেন, আমার কোনো আবাদি জমি নেই। সমিতি থেকে লোন নিয়ে ২ শতক জমি কিনেছি। ওই কিস্তির টাকা শোধ করে আবার লোন নিয়ে একটি খুপরি ঘর তুলে সেখানে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনোরকমে থাকি। ভ্যান চালিয়ে যা ইনকাম হয় তা দিয়ে সংসার চালাই আর সমিতির কিস্তি দিই। বৈশাখী পড়াশোনায় খুব ভালো কিন্তু আমি অভাবের তাড়নায় তাকে ভালো করে পড়াতে পারি না। কীভাবে পড়াব? আমার তো টাকা-পয়সা নেই। অভাবের কারণে আমার ছোট ছেলেটাও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। অনেক কষ্ট করে মেয়েটাকে এই পর্যন্ত পড়িয়ে আসছি। আমার মেয়েটা একা চলতে পারে না। কেউ যদি আমার মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতো, তাহলে মেয়েটা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারতে।

বৈশাখী জানান, আমি লেখাপড়া করে শিক্ষক হতে চাই। জীবনে আমার অনেক স্বপ্ন। সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে জীবনে ভালো কিছু একটা করতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

মা ডালিম বেগম বলেন, আমার মেয়ের পড়াশোনায় খুব আগ্রহ। কিন্তু অভাবের সংসারে তাকে আমরা ভালোভাবে পড়াতে পারি না। ঠিকমতো বইখাতা কিনে দিতে পারি না। একটা প্রাইভেটও পড়াতে পারি না। সে নিজে থেকে তার সহপাঠীদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে আবার কখনো খাতায় নোট করে এনে পড়াশোনা করে। আমরা এমনিতেই অনেক গরিব মানুষ তারপর আবার মেয়েটা শারীরিক প্রতিবন্ধী। যদি সমাজের বিত্তবানরা আমার মেয়ের পড়াশোনায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন তাহলে মেয়েটা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত।

মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সূচিন্দনাথ মণ্ডল বলেন, বৈশাখী খাতুন মেধাবী ছাত্রী। তিনি পড়াশোনায় খুব ভালো। বৈশাখী শারীরিক প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় আমি তাকে কিছু কিছু বইসহ যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতার চেষ্টা করি। বৈশাখী যদি সুষ্ঠু পরিবেশ পায় আমার বিশ্বাস তাহলে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বৈশাখী খাতুনকে দমাতে পারেনি। তার সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মনোবল অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তার পাশে থাকবে এবং সে যেন উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে, সেই প্রত্যাশাই কামনা করি।

উল্লেখ্য, এবার এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় জেলায় মোট ৫ হাজার ৫৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৭০ জন ছেলে, ও ২ হাজার ৫৪৩ জন মেয়ে এবং আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৬৬ জন ছেলে ও ১৫৪ জন মেয়ে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow