শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কাছে হার মানেননি কামাল

জন্ম থেকেই শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ কামাল হোসেন। উচ্চতায় মাত্র ২০ ইঞ্চি হওয়ায় এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। অন্যের সহায়তা ছাড়া দাঁড়ানো কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়াও তার জন্য প্রায় অসম্ভব।  তবুও থেমে নেই জীবন। প্রতিদিন প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে নিজেকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই প্রতিবন্ধী তরুণ।  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের হাসেম মৌলভী বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন। সাত সদস্যের পরিবারের আর্থিক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। তার বাবার সীমিত আয়ে সাত সদস্যের সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম। ফলে শৈশব থেকে চিকিৎসা ও শিক্ষা, দুই ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার হয়েছেন কামাল। পরিবারের সদস্যরা জানান, সমবয়সীদের মতো স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন ছিল তারও। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়নি। বর্তমানে ঘরের ভেতর চলাফেরার প্রয়োজন হলে দুই হাতের ওপর

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কাছে হার মানেননি কামাল
জন্ম থেকেই শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ কামাল হোসেন। উচ্চতায় মাত্র ২০ ইঞ্চি হওয়ায় এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। অন্যের সহায়তা ছাড়া দাঁড়ানো কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়াও তার জন্য প্রায় অসম্ভব।  তবুও থেমে নেই জীবন। প্রতিদিন প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে নিজেকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই প্রতিবন্ধী তরুণ।  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের হাসেম মৌলভী বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন। সাত সদস্যের পরিবারের আর্থিক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। তার বাবার সীমিত আয়ে সাত সদস্যের সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম। ফলে শৈশব থেকে চিকিৎসা ও শিক্ষা, দুই ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার হয়েছেন কামাল। পরিবারের সদস্যরা জানান, সমবয়সীদের মতো স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন ছিল তারও। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়নি। বর্তমানে ঘরের ভেতর চলাফেরার প্রয়োজন হলে দুই হাতের ওপর ভর করে চলতে হয় তাকে।  ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, যে অর্থ উপার্জন করি তাতে সংসারের প্রয়োজন মেটাতেই কষ্ট হয়। আমার এই প্রতিবন্ধী ছেলের ভবিষ্যতের জন্য কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। আমার এই অসহায় ছেলেকে নিয়ে আমি সবসময়ই ভাবি, ভবিষ্যৎ জীবনে তার কী হবে। নিজের শারীরিক অক্ষমতাকে মেনে নিয়ে বসে থাকেননি কামাল। পরিবারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থেকে প্রতিদিন একটি ভাড়া করা রিকশায় করে উপজেলা সদর বাজারে যান তিনি। সেখান সড়কের পাশে বসে মানুষের কাছ থেকে যে সহায়তার অর্থ পান, তা দিয়েই নিজের খরচের পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছুটা অবদান রাখার চেষ্টা করেন কামাল। কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন রিকশা ভাড়া করে ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে যাই। মানুষ যে সাহায্য করে তা নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরি। ওই টাকাতে কোনো রকমে দিন চলে। তবে বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ার দিনে বের হতে পারি না। আর বের হতে না পারলে উপার্জনও হয় না। তখন আয়ও থাকে না।  সরকারি সহায়তা হিসেবে একটি প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র পেয়েছেন কামাল। তবে তার পরিবার মনে করেন, সরকারি এ সহায়তা তার জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো তার জীবনযাপন এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। স্থানীয়দের মতে, উপযুক্ত পুনর্বাসন এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কামালের জীবন যুদ্ধে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। সীমাহীন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তার অদম্য মানসিক শক্তি ও বেঁচে থাকার ইচ্ছা অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে আছে। দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ভূঁইয়া রিপন বলেন, কামালকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত বছর আমি নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে তার জন্য প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও সহায়তা প্রয়োজন। আমি আমার পরিষদ থেকে যতটা সম্ভব ভবিষ্যতেও তাকে সহযোগিতা করব। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow