শিক্ষকের হাত-পা ভাঙলেন প্রধান শিক্ষকের ভাই, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে প্রধান শিক্ষকের ভাই। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে শিক্ষক ও স্থানীয়রা মানবন্ধন করেছেন।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধন করা হয়।   আহত শিক্ষকের নাম ইমাম হোসেন রাজন শিকদার। তিনি কালকিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের ছেলে এবং ১৫৮ নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল ছুটি শেষে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন সহকারী শিক্ষক রাজন শিকদার। পথিমধ্যে আড়িয়াল খাঁ নদীর আলিপুর-সস্তাল খেয়া ঘাটে ওত পেতে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের ভাই মিলন শিকদার ১০-১২ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র ও রড নিয়ে রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।  তারা আরও জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে এবং একপর্যায়ে তার হাত পা ভেঙে খেয়া ঘাটের নিকটতম রাস্তায় ফেলে রাখে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে

শিক্ষকের হাত-পা ভাঙলেন প্রধান শিক্ষকের ভাই, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে প্রধান শিক্ষকের ভাই। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে শিক্ষক ও স্থানীয়রা মানবন্ধন করেছেন।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধন করা হয়।   আহত শিক্ষকের নাম ইমাম হোসেন রাজন শিকদার। তিনি কালকিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের ছেলে এবং ১৫৮ নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল ছুটি শেষে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন সহকারী শিক্ষক রাজন শিকদার। পথিমধ্যে আড়িয়াল খাঁ নদীর আলিপুর-সস্তাল খেয়া ঘাটে ওত পেতে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের ভাই মিলন শিকদার ১০-১২ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র ও রড নিয়ে রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।  তারা আরও জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে এবং একপর্যায়ে তার হাত পা ভেঙে খেয়া ঘাটের নিকটতম রাস্তায় ফেলে রাখে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের টিফিন বিতরণকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপির সঙ্গে সহকারী শিক্ষক রাজনের বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এছাড়াও লিপি বেগমের কিছু অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজন প্রায়ই প্রতিবাদ করতো। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের বাড়ি স্কুলের নিকটে এবং প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি প্রতিনিয়তই রাজনকে হুমকি ধামকি দিতেন। তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরেও উভয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। যার প্রেক্ষাপটে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগম তার আপন ভাই মিলন মোল্লাকে দিয়ে সহকারী শিক্ষক রাজন শিকদারের ওপর হামলা করায়। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগম ও তার ভাই মিলন মোল্লাসহ কয়েকজনকে আসামি করে কালকিনি থানায় একটি মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার। মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষক ও নেতারা বলেন, সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত মিলন মোল্লাসহ তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যদি না করা হয় শিক্ষক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। তারা আরও বলেন, উপজেলার সব শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা বিদ্যালয় নির্বিঘ্নে পাঠদান করতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগম যদি জড়িত থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং মানুষ গড়ার কারিগরের ওপর এমন বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।  এসময় উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস শিকদার, গোলাম কিবরিয়া, জসিমউদ্দিন, আনিসুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, সবুজ শিকদার, বেলায়েত হোসেন, শাহাদত হোসেন, মেহেদী হাসান, বকুল বেগম, ডায়নাসহ কালকিনি উপজেলার সাধারণ শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow