শিক্ষাঙ্গনে ‘মব’ কালচার বন্ধ করতে হবে: রিদওয়ান মাযহারী

শিক্ষাঙ্গনে ‘মব’ কালচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী। তিনি বলেছেন, মব কালচার বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং দেশ নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কওমী মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও কর্মী সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর মিরাবাজারস্থ হোটেল মিরা গার্ডেনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রিদওয়ান মাযহারী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ড কিংবা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত মরদেহের মতো ঘটনা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এসব ঘটনা শুধু পৈশাচিকতাই নয়, বরং সভ্য সমাজের জন্য একটি বড় ক্ষত। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির নাম ব্যবহার করে কিংবা ৫ আগস্টের আন্দোলনের দোহাই দিয়ে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে, তারা দেশের ছাত্র-জনতার ত্যাগের চেতনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব যখন মব কালচারকে উৎসাহ দেয় অথবা নিজেই এর শিকার হয়, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপ

শিক্ষাঙ্গনে ‘মব’ কালচার বন্ধ করতে হবে: রিদওয়ান মাযহারী
শিক্ষাঙ্গনে ‘মব’ কালচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী। তিনি বলেছেন, মব কালচার বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং দেশ নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কওমী মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও কর্মী সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর মিরাবাজারস্থ হোটেল মিরা গার্ডেনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রিদওয়ান মাযহারী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ড কিংবা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত মরদেহের মতো ঘটনা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এসব ঘটনা শুধু পৈশাচিকতাই নয়, বরং সভ্য সমাজের জন্য একটি বড় ক্ষত। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির নাম ব্যবহার করে কিংবা ৫ আগস্টের আন্দোলনের দোহাই দিয়ে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে, তারা দেশের ছাত্র-জনতার ত্যাগের চেতনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব যখন মব কালচারকে উৎসাহ দেয় অথবা নিজেই এর শিকার হয়, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে রিদওয়ান মাযহারী বলেন, শিক্ষাঙ্গনে যদি শিক্ষার্থীরা ইনসাফ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে গোটা দেশই ভয়াবহ নৈরাজ্যের দিকে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠন যেভাবে আধিপত্য ও জুলুমের রাজনীতি করেছে, তার পরিণতি এখন দৃশ্যমান। তবে একই ধরনের প্রতিহিংসা, জুলুম ও সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে অন্যদের সঙ্গে নৈতিক পার্থক্য থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মব কালচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাময়িক আবেগের বহিঃপ্রকাশ হলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রতিহিংসার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কিছু ‘গুপ্ত রাজনৈতিক’ গোষ্ঠী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে রিদওয়ান মাযহারী বলেন, রাজনীতি হতে হবে স্বচ্ছ এবং শুরাভিত্তিক। আবেগতাড়িত হয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া আদর্শিক ছাত্রদের কাজ নয়। তিনি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের প্রতি কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে মব ভায়োলেন্স বা সন্ত্রাসে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে বিচারহীনতা ও সহিংসতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে মেধাবীরা ক্যাম্পাসমুখী না হয়ে ক্যাম্পাসবিমুখ হয়ে পড়বে। এতে জাতি মেধাশূন্যতার দিকে এগিয়ে যাবে। রিদওয়ান মাযহারী বলেন, বিপ্লবের প্রকৃত সার্থকতা ধ্বংসযজ্ঞে নয়, বরং ইনসাফ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত। তিনি শিক্ষার্থীদের হুজুগের ঊর্ধ্বে উঠে প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow