শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে পরীক্ষায় ফেরার সুযোগ পেলেন সেই ৮ শিক্ষার্থী

শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের জরুরি উদ্যোগে অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থী।  গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রথম পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হলেও, শনিবার (৪ জুলাই) থেকে তারা বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের বন্যা বইছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান শিক্ষার্থীদের হাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবেশপত্র তুলে দেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এই আট শিক্ষার্থী হলেন- ইশরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল হাসান, তানভীর হোসাইন, শিমুল আলী, মুক্তাদি হাসান সাব্বির ও হাসিবুল হাসান শাওন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, শুক্রবারই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রস্

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে পরীক্ষায় ফেরার সুযোগ পেলেন সেই ৮ শিক্ষার্থী

শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের জরুরি উদ্যোগে অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থী। 

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রথম পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হলেও, শনিবার (৪ জুলাই) থেকে তারা বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের বন্যা বইছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান শিক্ষার্থীদের হাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবেশপত্র তুলে দেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এই আট শিক্ষার্থী হলেন- ইশরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল হাসান, তানভীর হোসাইন, শিমুল আলী, মুক্তাদি হাসান সাব্বির ও হাসিবুল হাসান শাওন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, শুক্রবারই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রস্তুত করে দ্রুত কলেজে পাঠানো হয়। ফলে তারা অবশিষ্ট সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা বোর্ড, কলেজ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, ঘটনার তদন্তে কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রন্থাগারের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে শুক্রবার বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

শনিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অভিযুক্ত অফিস সহকারী আট শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা গ্রহণ করলেও তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করেননি বলে অভিযোগ উঠে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে শনিবার থেকেই আট শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow