শিক্ষার্থীদের ‘জুতার মালা’ পরিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঘোরান প্রধান শিক্ষক

বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও স্যান্ডেলের মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ৭২ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।  জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় কেবল কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের গাছ থেকে কয়েকটি আম পেড়ে খাওয়ার অপরাধে পরদিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) তিন শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম। তিনি প্রথমে তাদের বেত্রাঘাত করেন এবং পরে প্রত্যেকের গলায় স্যান্ডেল ঝুলিয়ে দিয়ে ‘আমচোর’ লিখে শ্রেণিকক্ষগুলোতে ঘুরিয়ে দেখান। এই অপমানজনক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কৈফিয়ত তলব করা হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক এর জবাব দেননি।  উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম কবীর জানান, আজ সকালে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জানা গেছে প্রধান শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। স্থানী

শিক্ষার্থীদের ‘জুতার মালা’ পরিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঘোরান প্রধান শিক্ষক

বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও স্যান্ডেলের মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ৭২ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় কেবল কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের গাছ থেকে কয়েকটি আম পেড়ে খাওয়ার অপরাধে পরদিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) তিন শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম। তিনি প্রথমে তাদের বেত্রাঘাত করেন এবং পরে প্রত্যেকের গলায় স্যান্ডেল ঝুলিয়ে দিয়ে ‘আমচোর’ লিখে শ্রেণিকক্ষগুলোতে ঘুরিয়ে দেখান। এই অপমানজনক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কৈফিয়ত তলব করা হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক এর জবাব দেননি। 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম কবীর জানান, আজ সকালে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জানা গেছে প্রধান শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুদের শাসন করার নামে এমন আদিম ও অপমানজনক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কামরুল ইসলাম বলেন, গাছের ফল তো শিক্ষার্থীদের জন্যই। সামান্য কারণে তাদের এভাবে অপমান না করে বুঝিয়ে বলা যেত।

যদিও গত শনিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক ক্ষমা চেয়েছিলেন, তবে অভিভাবকরা একে সাধারণ ক্ষমা হিসেবে দেখতে নারাজ; তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনড় রয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি নিজে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow