শিল-পাটা নাকি ব্লেন্ডার, কোনটিতে মসলা বাটা বেশি স্বাস্থ্যকর

বাঙালির রান্নায় মসলার জাদু অস্বীকার করার উপায় নেই। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ এবং রংয়ের পেছনেই মসলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। আর সেই মসলা যদি খাঁটি ও সঠিকভাবে বাটা হয়, তবে সাধারণ একটি পদও হয়ে ওঠে অসাধারণ। কিন্তু আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রান্নাঘরের সেই চিরচেনা শিল-পাটা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তার জায়গা দখল করেছে দ্রুত কাজ করা ব্লেন্ডার বা মিক্সার গ্রাইন্ডার। সময় বাঁচালেও প্রশ্ন থেকে যায় যে-স্বাস্থ্য, স্বাদ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে কোনটি বেশি উপকারী? শিল-পাটার ঐতিহ্য ও গুণাগুণ শিল-পাটা আমাদের উপমহাদেশের প্রাচীন রান্নার একটি অংশ। এই পদ্ধতিতে মসলা ধীরে ধীরে ঘষে বাটা হয়, ফলে উপাদানের প্রাকৃতিক তেল ও সুগন্ধ পুরোপুরি বজায় থাকে। এতে রান্নার স্বাদ অনেক বেড়ে যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, শিল-পাটায় বাটার সময় কোনো ধরনের কৃত্রিম তাপ তৈরি হয় না। ফলে মসলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। এতে করে মসলার প্রাকৃতিক গুণ বজায় থাকে। এছাড়া শিল-পাটায় বাটা মসলা অনেক বেশি মিহি ও সমান হয়, যা রান্নায় সহজে মিশে যায় এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। পেটের অস্বস্তি বা গ্যাসের সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়। আর

শিল-পাটা নাকি ব্লেন্ডার, কোনটিতে মসলা বাটা বেশি স্বাস্থ্যকর

বাঙালির রান্নায় মসলার জাদু অস্বীকার করার উপায় নেই। খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ এবং রংয়ের পেছনেই মসলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। আর সেই মসলা যদি খাঁটি ও সঠিকভাবে বাটা হয়, তবে সাধারণ একটি পদও হয়ে ওঠে অসাধারণ। কিন্তু আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রান্নাঘরের সেই চিরচেনা শিল-পাটা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তার জায়গা দখল করেছে দ্রুত কাজ করা ব্লেন্ডার বা মিক্সার গ্রাইন্ডার। সময় বাঁচালেও প্রশ্ন থেকে যায় যে-স্বাস্থ্য, স্বাদ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে কোনটি বেশি উপকারী?

শিল-পাটার ঐতিহ্য ও গুণাগুণ

শিল-পাটা আমাদের উপমহাদেশের প্রাচীন রান্নার একটি অংশ। এই পদ্ধতিতে মসলা ধীরে ধীরে ঘষে বাটা হয়, ফলে উপাদানের প্রাকৃতিক তেল ও সুগন্ধ পুরোপুরি বজায় থাকে। এতে রান্নার স্বাদ অনেক বেড়ে যায়।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, শিল-পাটায় বাটার সময় কোনো ধরনের কৃত্রিম তাপ তৈরি হয় না। ফলে মসলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। এতে করে মসলার প্রাকৃতিক গুণ বজায় থাকে।

এছাড়া শিল-পাটায় বাটা মসলা অনেক বেশি মিহি ও সমান হয়, যা রান্নায় সহজে মিশে যায় এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। পেটের অস্বস্তি বা গ্যাসের সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়।

আরেকটি দিক হলো শারীরিক উপকারিতা। শিল-পাটায় মসলা বাটা একটি হালকা শারীরিক ব্যায়ামের মতো কাজ করে, যা হাত, কাঁধ ও শরীরের কিছু পেশিকে সক্রিয় রাখে।

ব্লেন্ডারের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

অন্যদিকে আধুনিক ব্লেন্ডার বা মিক্সার গ্রাইন্ডার খুব দ্রুত কাজ করে। কয়েক সেকেন্ডেই শক্ত মসলা গুঁড়ো বা পেস্ট তৈরি করা যায়, যা ব্যস্ত জীবনে অত্যন্ত সুবিধাজনক।

তবে ব্লেডের দ্রুত ঘূর্ণনের কারণে কিছুটা তাপ উৎপন্ন হয়, যা মসলার প্রাকৃতিক সুগন্ধ ও তেলের একটি অংশ নষ্ট করতে পারে। ফলে স্বাদে সামান্য পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে।

অনেক সময় ব্লেন্ডারে মসলা পুরোপুরি মসৃণ না হয়ে দানাদার থেকে যায়, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে মসলার কিছু ভিটামিন ও উপকারী উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

আরেকটি বিষয় হলো, ব্লেন্ডারের প্লাস্টিক বা রাবার অংশ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ক্ষয় হয়ে গেলে খুব সামান্য পরিমাণে কণা মসলার সঙ্গে মিশতে পারে, যা নিয়ে অনেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

কোনটি বেশি ভালো?

পুষ্টিগুণ, স্বাদ এবং প্রাকৃতিকতা বিবেচনায় শিল-পাটায় বাটা মসলা নিঃসন্দেহে বেশি উপকারী। এটি খাবারের আসল স্বাদ ধরে রাখে এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অনেক বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

তবে বাস্তব জীবনের ব্যস্ততার কারণে ব্লেন্ডারও অনেকের জন্য অপরিহার্য। সময় বাঁচানো এবং দ্রুত রান্না করার ক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই।

শিল-পাটা ও ব্লেন্ডার দুটিরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। যদি সময় থাকে, তাহলে শিল-পাটার ব্যবহার স্বাদ ও পুষ্টির জন্য সেরা। আর যদি দ্রুততা প্রয়োজন হয়, তাহলে ব্লেন্ডার ব্যবহার করলেও কিছু ছোট কৌশল যেমন অল্প পানি ব্যবহার করে থেমে থেমে বাটা, তাপ কমিয়ে মসলার গুণাগুণ কিছুটা হলেও বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র: মাস্টার্স ইন্ডিয়ান স্পাইসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, কুকলি ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow