শিল্পকলায় মাসব্যাপী যাত্রাপালার সমাপনীতে মঞ্চস্থ হলো ‘জেনারেল ওসমানী’
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মাসব্যাপী যাত্রাপালা নিবন্ধন উৎসবের আজ আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। বিজয়ের মাস উপলক্ষে গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবটি রাষ্ট্রীয় শোকপালনের কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও আজ সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বরেণ্য কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। স্বাগত বক্তব্য দেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী। সমাপনী অনুষ্ঠানে যাত্রাশিল্পে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষীয়ান যাত্রা শিল্পী আনোয়ার হোসনকে আজীবন সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণ শেষে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “যখন এই যাত্রাপালা নিবন্ধন উৎসব শুরু হয় তখন ৩০টি যাত্রাপালা মঞ্চায়নের প
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মাসব্যাপী যাত্রাপালা নিবন্ধন উৎসবের আজ আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। বিজয়ের মাস উপলক্ষে গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবটি রাষ্ট্রীয় শোকপালনের কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও আজ সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বরেণ্য কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। স্বাগত বক্তব্য দেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে যাত্রাশিল্পে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষীয়ান যাত্রা শিল্পী আনোয়ার হোসনকে আজীবন সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণ শেষে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “যখন এই যাত্রাপালা নিবন্ধন উৎসব শুরু হয় তখন ৩০টি যাত্রাপালা মঞ্চায়নের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত ৩৬টিতে গিয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের কোনো পরিকল্পনায় ছিল না। ডিসেম্বরে উৎসব শুরুর সময় আমি দীপক কুমার গোস্বামীকে ‘জেনারেল ওসমানী’কে নিয়ে একটি যাত্রাপালা মঞ্চায়নের কথা বলি। কারণ, আমাদের ইতিহাসের এই মহান নায়ককে নানাভাবে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই যাত্রাপালাটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা আমাদের সরকারের সক্ষমতার প্রতিফলন। আগামী মার্চ মাসে এটি দেশের ৬৪টি জেলায় মঞ্চায়িত হবে। আমাদের যাত্রাপালায় দেশের গল্প আরও বেশি উঠে আসা উচিত, সেই উদ্যোগই আমরা শুরু করেছি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. মফিদুর রহমান বলেন, “এক মাস ধরে যাত্রাশিল্পীরা নিয়মিত প্রদর্শনী করেছেন, সেখান থেকেই যাত্রাদলগুলো নিবন্ধিত হয়েছে। এটি এমন একটি আয়োজন, যেখানে দর্শকরা যাত্রা উপভোগের পাশাপাশি শিল্পীদের জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কেও জানতে পারছেন।”
সভাপতির বক্তব্যে শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই উৎসবে আমরা ৩৬টি যাত্রাদলকে নিবন্ধিত করতে পেরেছি। দেশের আরও অনেক ভালো যাত্রাদল রয়েছে, ভবিষ্যতে সেগুলোও আমরা অন্তর্ভুক্ত করব। ৩৬ জুলাইয়ের সঙ্গে ৩৬টি যাত্রাপালা এক ধরনের মিরাকল হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালাটি মঞ্চায়ন করে মানুষের বিপুল আগ্রহ দেখেছি। যাত্রাপালা শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের বিবেক জাগ্রত করার একটি শিল্পমাধ্যম। আগামী মার্চ থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় এই যাত্রাপালাটি প্রদর্শিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে ওসমানীর অবদান ও নেতৃত্ব এই পালায় গভীরভাবে উঠে এসেছে।”
এর আগে বিকাল ৩টায় যাত্রাশিল্পীদের অংশগ্রহণে নগর পরিভ্রমণের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দলের শিল্পীরা তাদের অভিনীত চরিত্রের পোশাকে সংলাপ উচ্চারণ করতে করতে বাদ্যযন্ত্রসহ সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে নগর প্রদক্ষিণ করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর ও শাহবাগ হয়ে আবার শিল্পকলায় এসে এই পরিভ্রমণ শেষ হয়। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বেলায়েত হোসেন, যাত্রা মালিক সমিতির সভাপতি সোহেল হায়দার জসীম, যাত্রাপালাকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ, ঢাকা মহানগরের সভাপতি মো. তানসেন মিয়া, উপদেষ্টা মো. সালাউদ্দিন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় যাত্রাশিল্পী পরিষদের সভাপতি কাজল মিয়াসহ যাত্রাশিল্পের নেতারা, শিল্পী ও শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রা ইউনিট মঞ্চায়ন করে ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’। পালাকার ছিলেন এমএ মজিদ এবং নির্দেশনায় ছিলেন তানভীর নাহিদ খান।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন মো. তাহাজ উদ্দিন, সুমি আক্তার, মো. শামীম খন্দকার, আব্দুল আজিজ, মানষ কুমার ঢালী, হরেন্দ্র নাথ মন্ডল, তুষার কান্তি মল্লিক, সৌমেন রায়, মো. রইচ উদ্দীন শাহ, মো. আসকার আলি (ওয়াসীম), মো. আফসারুজ্জামান (রনি), মো. খোরশেদ আলম মন্ডল, মো. মজীবর রহমান সেলিম, মোজাম্মেল হক, রিমা আক্তার, লাবলু উকিল, প্রণব রঞ্জন বালা, মো. হোসাইন জীবন, মোছা. লাভলী বেগম, তাসনোভা চৌধুরী, রিমি রফিক, শতরূপা ধর শ্যামা, মনিমা আক্তার মনি, ইসরাত জাহান তাসফির, দুলালী রায়, মো. আব্দুল মান্নানসহ অনেকে। নেপথ্য শিল্পী ও কলা-কুশলী হিসেবে ছিলেন মো. শামীম খন্দকার, মো. হোসাইন জীবন, মুনিরা মাহজাবিন, মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া, অমিত চৌধুরী, প্রণব রঞ্জন বালা, কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন, মো. তানভীর আহম্মেদ, রুদ্র রায়, মো. ফরুক মিয়া, শ্যামল চন্দ্র দাস, আলম, এম এ রহিম, কমল চন্দ্র দাস, ভানু চন্দ্র ভৌমিক ও নন্দিনী আহসান।
যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’র
মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা অথচ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরে যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’। এতে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এমএ জি ওসমানীর নেতৃত্ব, কৌশল, আত্মমর্যাদাবোধ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার দৃঢ় অবস্থানকে কেন্দ্র করে গল্প নির্মিত হয়েছে। পালায় মুক্তিবাহিনীর গোপন বৈঠক, গেরিলা বাহিনী গঠন, যুদ্ধের রণনীতি, ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ, নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম এবং গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের প্রতিরোধচিত্র আবেগঘন ও শক্তিশালী শিল্পভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
মাসব্যাপী এই যাত্রাপালা প্রদর্শনীতে নিবন্ধিত ৩৫টি যাত্রাদলের ৩৫টি যাত্রাপালা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রাদলের একটি পালাসহ মোট ৩৬টি যাত্রাপালা মঞ্চায়িত হয়। প্রদর্শনী থেকে টিকিট বিক্রির অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রাদলকে প্রদান করা হয়। প্রতিদিনের প্রদর্শনী জুরি বোর্ডের মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়।
What's Your Reaction?