শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা, অভিযোগের তীর আপন চাচির দিকে

যে বয়সে একটা শিশুর চেনার কথা শুধু মায়ের গায়ের গন্ধ, বাবার স্নেহের পরশ আর চারপাশের চেনা মানুষদের মিষ্টি হাসি। আর সেই বয়সে নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক অবুঝ নিষ্পাপ শিশুকে মুখোমুখি হতে হলো এক চরম নিষ্ঠুরতার। পৃথিবীর আলো-বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার আগেই তার ছোট্ট শরীরে নেমে এলো এক পৈশাচিক আঘাতের চেষ্টা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে খোদ নিজের আপন চাচির দিকে, যিনি মায়ের পরই শিশুটির সবচেয়ে বড় আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল। তিনিই নাকি শিশুটির পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টায় মুচড়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে। শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে মাধবদী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দুইজন হলেন, শিশুটির বড় চাচা ওরফে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউসার আহমেদ এবং তার শ্বশুর (লতার পিতা) আলমাস মিয়া। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের জহির মিয়া ও মোসা. সাইফা আক্তারের সন্তান। অভিযুক

শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা, অভিযোগের তীর আপন চাচির দিকে

যে বয়সে একটা শিশুর চেনার কথা শুধু মায়ের গায়ের গন্ধ, বাবার স্নেহের পরশ আর চারপাশের চেনা মানুষদের মিষ্টি হাসি। আর সেই বয়সে নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক অবুঝ নিষ্পাপ শিশুকে মুখোমুখি হতে হলো এক চরম নিষ্ঠুরতার। পৃথিবীর আলো-বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার আগেই তার ছোট্ট শরীরে নেমে এলো এক পৈশাচিক আঘাতের চেষ্টা।

অভিযোগের আঙুল উঠেছে খোদ নিজের আপন চাচির দিকে, যিনি মায়ের পরই শিশুটির সবচেয়ে বড় আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল। তিনিই নাকি শিশুটির পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টায় মুচড়ে দিয়েছিলেন।

এ ঘটনাটি ঘটেছে মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে। শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে মাধবদী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার।

এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দুইজন হলেন, শিশুটির বড় চাচা ওরফে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউসার আহমেদ এবং তার শ্বশুর (লতার পিতা) আলমাস মিয়া। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের জহির মিয়া ও মোসা. সাইফা আক্তারের সন্তান। অভিযুক্ত লতা বেগম ভুক্তভোগী শিশুর বড় চাচি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার জহির ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন সময় অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশু রিজিকের বাবা জহির ও চাচা কাউছার আহম্মেদ একসঙ্গে থাকেন (তাদের যৌথ পরিবার)।

শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারায় চাচি লতা বেগম নানা কটূক্তি করায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এরই জের ধরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।  শিশুর মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কৌশলে মোবাইলের ভিডিও চালু রেখে যান। 

বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ এবং অভিযুক্ত লতার বাবা আলমাস মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন। এর আগেই সাইফা আক্তার ভিডিওটি প্রবাসে থাকা ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়েছিলেন। এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।  

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, আমরা শিশুটির বাম পা এক্স-রে করার পর কোনো ইঞ্জুরি পাইনি। শিশুটি বর্তমান ভালো আছে। তবে শিশুটি জন্মগতভাবে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে।

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন ও একসঙ্গে কাজ করেন। তারা কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না। তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণের বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একটি মোবাইলও জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, তাদের মোবাইলে যে ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন সেটি ডিলিট করে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে লতার স্বামী ও লতার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার গ্রেপ্তারকৃতদের নরসিংদীর আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow