শীতকালে আপনার শরীর গরম রাখবে এমন ৫ খাবার

শীতকালে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা খুবই জরুরি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে; ফলে সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর, শরীর ব্যথা, পেশিতে টান ইত্যাদি সমস্যা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের শরীর দুর্বল বা সহজে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাদের জন্য এই সময়টা একটু বেশি কষ্টকর। তাই শীতের দিনে শরীর সুস্থ ও গরম রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। শীতকালে শরীর ভালো রাখার একটি সহজ উপায় হলো খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া। ভালোভাবে খাওয়ার গুরুত্ব শীতের সময় সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেলে শুধু ঠান্ডা কম লাগেই না, শরীরও শক্তিশালী থাকে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকে। চেষ্টা করুন, প্রতিদিন অন্তত এক বেলা গরম খাবার খাওয়ার - যেমন স্যুপ, ডাল, খিচুড়ি বা ঝোলযুক্ত তরকারি। এগুলো বানানো সহজ, হজমেও ভালো এবং শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। নিচে এমন কিছু খাবারের কথা বলা হলো, যা শীত বা বর্ষা - দুই ঋতুতেই শরীর গরম রাখতে সহায়ক। কলা শুনে অবাক লাগতে পারে, কিন্তু কলা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। কলায় থাকা ভিটামিন বি ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এগুলো থাইরয়ে

শীতকালে আপনার শরীর গরম রাখবে এমন ৫ খাবার

শীতকালে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা খুবই জরুরি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে; ফলে সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর, শরীর ব্যথা, পেশিতে টান ইত্যাদি সমস্যা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের শরীর দুর্বল বা সহজে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাদের জন্য এই সময়টা একটু বেশি কষ্টকর।

তাই শীতের দিনে শরীর সুস্থ ও গরম রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। শীতকালে শরীর ভালো রাখার একটি সহজ উপায় হলো খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া।

ভালোভাবে খাওয়ার গুরুত্ব

শীতের সময় সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেলে শুধু ঠান্ডা কম লাগেই না, শরীরও শক্তিশালী থাকে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকে।

চেষ্টা করুন, প্রতিদিন অন্তত এক বেলা গরম খাবার খাওয়ার - যেমন স্যুপ, ডাল, খিচুড়ি বা ঝোলযুক্ত তরকারি। এগুলো বানানো সহজ, হজমেও ভালো এবং শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।

নিচে এমন কিছু খাবারের কথা বলা হলো, যা শীত বা বর্ষা - দুই ঋতুতেই শরীর গরম রাখতে সহায়ক।

কলা

শুনে অবাক লাগতে পারে, কিন্তু কলা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। কলায় থাকা ভিটামিন বি ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এগুলো থাইরয়েড ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কার্যকারিতা ঠিক রাখে, যা ঠান্ডার সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন একটি কলা খেলে শরীরে শক্তি আসে এবং ঠান্ডা কম অনুভূত হয়।

আদা চা

চা খেতে ভালোবাসেন? তাহলে শীতকালে আদা চা দারুণ একটি বিকল্প। আদা শরীরের ভেতর থেকে তাপ তৈরি করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়া কমে, হজম ভালো হয় এবং শরীর দ্রুত উষ্ণ হয়।

যারা আদা চা পছন্দ করেন না, তারা স্যুপ, ডাল, তরকারি বা অন্য যেকোনো খাবারে আদা ব্যবহার করতে পারেন।

কফি

কফি খাওয়ার আরেকটি ভালো কারণ পাওয়া গেল! কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ায়, ফলে শরীর গরম থাকে। এটি শরীরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়াতে সাহায্য করে।

ঠান্ডার দিনে গরম কফি আর কম্বলের আরাম - অনেকের কাছেই শীত কাটানোর সেরা উপায়।

মিষ্টি আলু ও অন্যান্য মূলজাত সবজি

বিট, গাজর, শালগম, কচু, আলু ও মিষ্টি আলুর মতো মূলজাত সবজি শীতকালের জন্য আদর্শ। এগুলোতে জটিল কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার বেশি থাকে, যা ধীরে হজম হয় এবং শরীরে বেশি তাপ উৎপন্ন করে।

এই কারণেই শীতকালে আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারে সেদ্ধ বা রান্না করা সবজির ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

মাংস ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

প্রোটিন হজম করতে শরীরকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়, ফলে শরীর বেশি গরম থাকে। মাংসজাত প্রোটিন ভাঙতে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের তুলনায় বেশি শক্তি লাগে।

এছাড়া মাংসে আয়রন ও ভিটামিন বি থাকে, যা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে—বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি আছে তাদের জন্য।

যারা নিরামিষভোজী, তারা ডাল, ছোলা, রাজমা, সয়াবিন ও বাদাম থেকেও ভালো প্রোটিন পেতে পারেন।

অতিরিক্ত কিছু টিপস

- গরম পানি বা হালকা গরম পানীয় পান করুন

- খিচুড়ি, ডাল-ভাত, স্যুপের মতো ঘরোয়া খাবার বেশি খান

- বাদাম, তিল ও গুড় পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উপকারী

এই খাবারগুলো শীতকালে আপনাকে ভেতর থেকে গরম রাখতে সাহায্য করবে। তবে মনে রাখবেন, শুধু খাবার নয় - গরম কাপড় পরা ও শরীর ঢেকে রাখাও সমান জরুরি।

শীতকালে গরম থাকুন, সুস্থ থাকুন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow