শীতে শিশুর গোসল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

শীত এলেই অনেক বাবা-মায়ের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় ‘এই ঠান্ডায় শিশুকে গোসল করানো ঠিক হবে তো’? বিশেষ করে যেসব শিশুর সহজে সর্দি-কাশি হয়, তাদের ক্ষেত্রে দ্বিধা আরও বেড়ে যায়। গোসল করালে ঠান্ডা লাগবে না তো? এই চিন্তায় অনেকেই আবার শিশুর গোসল বন্ধ করে দেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, শীতে গোসল বাদ দেওয়া সমাধান নয়; বরং কিছু নিয়ম মেনে চললেই শিশু থাকবে সুস্থ। শীতের মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিশুর কোমল ত্বকে। ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটার প্রবণতা দেখা দেয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় নিয়মিত গোসল করানো না হলে ত্বকের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই ঠান্ডা যতই হোক, সঠিক পদ্ধতিতে গোসল করানো জরুরি। কখন গোসল করাবেন? খুব ভোরে বা বিকেলের দিকে শিশুকে গোসল করানো একেবারেই ঠিক নয়। সকালে সূর্যের তাপ কিছুটা বাড়লে, অর্থাৎ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে গোসল করানো সবচেয়ে নিরাপদ সময়। এই সময় ঠান্ডা বাতাস তুলনামূলক কম থাকে। কুয়াশা বেশি হলে বা দিনভর মেঘলা আবহাওয়া থাকলে গোসলের বদলে হালকা গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর স্পঞ্জ করালেও চলবে। যেসব নিয়ম মানা জরুরি কখনোই খুব ঠান্ডা বা খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না।

শীতে শিশুর গোসল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

শীত এলেই অনেক বাবা-মায়ের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় ‘এই ঠান্ডায় শিশুকে গোসল করানো ঠিক হবে তো’? বিশেষ করে যেসব শিশুর সহজে সর্দি-কাশি হয়, তাদের ক্ষেত্রে দ্বিধা আরও বেড়ে যায়। গোসল করালে ঠান্ডা লাগবে না তো? এই চিন্তায় অনেকেই আবার শিশুর গোসল বন্ধ করে দেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, শীতে গোসল বাদ দেওয়া সমাধান নয়; বরং কিছু নিয়ম মেনে চললেই শিশু থাকবে সুস্থ।

শীতের মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিশুর কোমল ত্বকে। ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটার প্রবণতা দেখা দেয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় নিয়মিত গোসল করানো না হলে ত্বকের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই ঠান্ডা যতই হোক, সঠিক পদ্ধতিতে গোসল করানো জরুরি।

শীতে শিশুর গোসল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

কখন গোসল করাবেন?

খুব ভোরে বা বিকেলের দিকে শিশুকে গোসল করানো একেবারেই ঠিক নয়। সকালে সূর্যের তাপ কিছুটা বাড়লে, অর্থাৎ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে গোসল করানো সবচেয়ে নিরাপদ সময়। এই সময় ঠান্ডা বাতাস তুলনামূলক কম থাকে। কুয়াশা বেশি হলে বা দিনভর মেঘলা আবহাওয়া থাকলে গোসলের বদলে হালকা গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর স্পঞ্জ করালেও চলবে।

যেসব নিয়ম মানা জরুরি

  • কখনোই খুব ঠান্ডা বা খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। পানি হতে হবে কুসুম গরম।
  • গোসলের সময় ৫ থেকে ৭ মিনিটের বেশি যেন না হয়। দীর্ঘ সময় পানিতে রাখবেন না।
  • গোসল শেষে সঙ্গে সঙ্গে তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে দিন। শরীরে যেন ঠান্ডা বাতাস না লাগে।
  • গোসলের পরপরই গরম জামাকাপড়, মোজা ও টুপি পরিয়ে দিন।
  • শীতকালে গ্লিসারিনযুক্ত মাইল্ড সাবান ব্যবহার করা ভালো। প্রতিদিন শ্যাম্পু করানোর প্রয়োজন নেই।
  • গোসলের পর কিছুক্ষণ রোদে বসাতে পারলে শিশুর শরীর আরও ভালো থাকবে।
  • যেসব শিশু সময়ের আগেই জন্মেছে, নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কিয়াল সমস্যায় ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে গোসলের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: 

শীতে শিশুর ত্বকের আলাদা যত্ন

শীতকালে শুধু গোসল নয়, ত্বকের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গোসলের আগে হালকা করে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মালিশ করলে ত্বক শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকি কমে। গোসলের পর অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

চাইলে ঘরোয়া উপায়েও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। অ্যালোভেরা জেল, সামান্য দুধ ও মধু মিশিয়ে গোসলের পর শিশুর ত্বকে লাগানো যেতে পারে। তবে ব্যবহার করার আগে অ্যালার্জির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

শীতে শিশুর গোসল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

শীতেও সানস্ক্রিন প্রয়োজন

অনেকেই মনে করেন, শীতে সানস্ক্রিনের দরকার নেই। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। শীতেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে খেলাধুলার সময় শিশুদের জন্য এসপিএফ ২০ বা ৩০-এর সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতে শিশুর গোসল নিয়ে ভয় নয়; প্রয়োজন সচেতনতা। সঠিক সময়, সঠিক পানি আর একটু বাড়তি যত্ন এই তিনেই নিশ্চিত করা যায় শিশুর সুস্থতা।

তথ্যসূত্র: হেলদি চিলড্রেন

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow