শীতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়া কি চিন্তার কারণ
শীতকালে হাত ও পা ঠান্ডা লাগা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে কখন এটি স্বাভাবিক, আর কখন এটি কোনো রোগের লক্ষণ তা জানা জরুরি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের (BHF) সিনিয়র কার্ডিয়াক নার্স রেজিনা গিবলিন। শীতে হাত-পা কেন ঠান্ডা হয়? শীতের সময় শরীরের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায় (এটিকে বলা হয় ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন)। এর ফলে: - রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন কিছুটা বেড়ে যায় - হৃৎপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় শরীর তখন আগে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে—যেমন মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও কিডনিতে রক্ত পাঠাতে চায়। এর কারণে হাত ও পায়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং সেগুলো ঠান্ডা অনুভূত হয়। এ সময় হাত-পা: - ফ্যাকাশে বা নীলচে দেখাতে পারে - ঝিনঝিন করতে পারে - অবশ লাগতে পারে এগুলো সাধারণত ঠান্ডার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কখন এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সমস্যা? যদি আপনার হৃদযন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করে বা রক্ত চলাচলে সমস্যা থাকে, তাহলে হাত ও পা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। নিচের হৃদ্রোগ ও রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যাগুলো এর কারণ হতে পারে: - উচ্চ রক্তচাপ - নিম্ন রক্তচাপ - পেরিফেরাল আর্টার
শীতকালে হাত ও পা ঠান্ডা লাগা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে কখন এটি স্বাভাবিক, আর কখন এটি কোনো রোগের লক্ষণ তা জানা জরুরি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের (BHF) সিনিয়র কার্ডিয়াক নার্স রেজিনা গিবলিন।
শীতে হাত-পা কেন ঠান্ডা হয়?
শীতের সময় শরীরের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায় (এটিকে বলা হয় ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন)। এর ফলে:
- রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন কিছুটা বেড়ে যায়
- হৃৎপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়
শরীর তখন আগে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে—যেমন মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও কিডনিতে রক্ত পাঠাতে চায়। এর কারণে হাত ও পায়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং সেগুলো ঠান্ডা অনুভূত হয়। এ সময় হাত-পা:
- ফ্যাকাশে বা নীলচে দেখাতে পারে
- ঝিনঝিন করতে পারে
- অবশ লাগতে পারে
এগুলো সাধারণত ঠান্ডার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
কখন এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সমস্যা?
যদি আপনার হৃদযন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করে বা রক্ত চলাচলে সমস্যা থাকে, তাহলে হাত ও পা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
নিচের হৃদ্রোগ ও রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যাগুলো এর কারণ হতে পারে:
- উচ্চ রক্তচাপ
- নিম্ন রক্তচাপ
- পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (পা ও পায়ের পাতায় রক্ত চলাচল কমে যাওয়া)
- কিছু ওষুধ (যেমন: বিটা ব্লকার)
- হার্ট ফেইলিউর
এছাড়া হৃদ্রোগ ছাড়াও কিছু সমস্যায় হাত-পা ঠান্ডা হতে পারে:
- থাইরয়েডের সমস্যা
- ডায়াবেটিস
- রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ
রেইনোডস ডিজিজ
রেইনোডস ডিজিজ একটি সাধারণ সমস্যা, যেখানে ঠান্ডায় আঙুল (এবং অনেক সময় পায়ের আঙুল বা কান) সাদা বা নীলচে হয়ে যায় এবং অবশ লাগে।
এই রোগে শরীরের ছোট রক্তনালিগুলো তাপমাত্রার পরিবর্তনে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ঠান্ডায় সেগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রক্ত চলাচল বন্ধ বা কমে যায়।
আবার গরম পেলে রক্ত চলাচল শুরু হলে—
- আঙুল লাল হয়ে যায়
- ব্যথা অনুভূত হতে পারে
এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখcbf পুরোপুরি জানা যায়নি।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের (GP বা পারিবারিক চিকিৎসক) সঙ্গে কথা বলুন—
- গরম পরিবেশেও হাত বা পা ঠান্ডা থাকে
- ত্বক ফ্যাকাশে, নীলচে বা দাগযুক্ত দেখায়
- ঝিনঝিন, অবশ ভাব বা ব্যথা অনুভূত হয়
- পা বা পায়ের পাতায় ঘা দেখা যায়
চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে দেখবেন, এর পেছনে কোনো গুরুতর রোগ আছে কি না।
শীতে নিরাপদে হাত-পা গরম রাখার উপায়
শীতে রক্ত চলাচল ভালো রাখতে ও হাত-পা উষ্ণ রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস কাজে আসতে পারে—
- গ্লাভস ও মোটা মোজা পরুন, বিশেষ করে সকালে ও রাতে
- তবে কখনোই হাত-পা সরাসরি হিটার বা রেডিয়েটরের ওপর রাখবেন না—এতে ত্বক পুড়ে যেতে পারে
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন, এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়
- হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী খাবার খান—কম তেল-লবণ, বেশি শাকসবজি
- ধূমপান ছেড়ে দিন, ধূমপান রক্তনালি সংকুচিত করে
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন, বিশেষ করে রেইনোডস রোগীদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের শীত তুলনামূলক কম হলেও ভোর ও রাতে ঠান্ডার প্রভাব বেশি থাকে। তাই বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগীদের এ সময় বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
শীতে হাত-পা ঠান্ডা লাগা বেশিরভাগ সময় স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্য উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
What's Your Reaction?