শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তার ৫৬ ঘণ্টা

৩ শিশু ২ নারী ও ৫ জন পুরুষের জীবন থমকে গেছে ভারত বাংলাদেশের শূন্যরেখায়। রোদ ঝড় কিংবা বৃষ্টি কোনো কিছুই টলাতে পারেনি। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। রোববার (৭ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র রোদের মধ্যেও ওই ১০ জন একই স্থানে অবস্থান করছেন। সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে নারী, পুরুষ ও শিশুরা অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন। তাদের মাথার ওপর কোনো ছাউনি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে থাকায় শিশু ও নারীদের দুর্ভোগ এখন চরমে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন। শুক্রবার ভোর থেকে তারা সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে দাঁড়িয়ে আছেন। জমিটিতে পানি জমে রয়েছে। সেখানেই তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুক্রবার রাতে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময়ও নারী-শিশুসহ ওই ব্যক্তিরা একই স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাদের জন্য কোনো ধরনের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘ সময় ধ

শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তার ৫৬ ঘণ্টা

৩ শিশু ২ নারী ও ৫ জন পুরুষের জীবন থমকে গেছে ভারত বাংলাদেশের শূন্যরেখায়। রোদ ঝড় কিংবা বৃষ্টি কোনো কিছুই টলাতে পারেনি। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

রোববার (৭ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র রোদের মধ্যেও ওই ১০ জন একই স্থানে অবস্থান করছেন। সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে নারী, পুরুষ ও শিশুরা অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন। তাদের মাথার ওপর কোনো ছাউনি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে থাকায় শিশু ও নারীদের দুর্ভোগ এখন চরমে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন। শুক্রবার ভোর থেকে তারা সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে দাঁড়িয়ে আছেন। জমিটিতে পানি জমে রয়েছে। সেখানেই তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুক্রবার রাতে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময়ও নারী-শিশুসহ ওই ব্যক্তিরা একই স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাদের জন্য কোনো ধরনের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা মাঠে অবস্থান করায় শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

এর আগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে তারা শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছেন।

ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে কোম্পানি পর্যায় ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমাধান মেলেনি। শনিবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে প্রায় ২০ মিনিটের একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯৩ বিএসএফের কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে বিএসএফ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে, পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় থাকা ব্যক্তিদের মানবিক দুর্ভোগের বিষয়টিও বিএসএফকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow