শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষে আদালত চত্বরে উত্তেজনা

‘জয় বাংলা ব্রিগেড’র অনলাইন সভাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অবশিষ্ট শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় একপক্ষের বিরুদ্ধে অন্যপক্ষকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এদিন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে শুনানি শেষে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তারা দাবি করেন, মামলায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের উপাদান নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে এসে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের ধাক্কা দিয়ে আদালত চত্বর

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষে আদালত চত্বরে উত্তেজনা

‘জয় বাংলা ব্রিগেড’র অনলাইন সভাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অবশিষ্ট শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় একপক্ষের বিরুদ্ধে অন্যপক্ষকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এদিন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে শুনানি শেষে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তারা দাবি করেন, মামলায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের উপাদান নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে এসে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের ধাক্কা দিয়ে আদালত চত্বর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিককে তা না করার অনুরোধ করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুক।

তবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তাদের কয়েক দফা সতর্ক করা হয়। পরে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিহার হোসেন ফারুক বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। এটি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।

আওয়ামীপন্থি আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, আদালতে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে কোনো আইনজীবী ওই স্লোগান দেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, পরে তাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং এরপর তারা সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’র একটি জুম সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। ওই সভায় রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেওয়া এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার এনামুল হক গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এমডিএএ/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow