শেফ জ্যাকেট ছেড়ে পরিবেশ সংরক্ষণের লড়াইয়ে ইদ্রিস-বৃষ্টি

সানওয়ে ইউনিভার্সিটি স্কুল অব হসপিটালিটি অ্যান্ড সার্ভিস ম্যানেজমেন্টে রন্ধনশিল্পের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু হয়েছিল ইদ্রিস হপি ও বৃষ্টি খাতুনের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে রূপ নিয়েছে মানবতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রায়। ব্যাচেলর অব সায়েন্স (অনার্স) ইন কালিনারি ম্যানেজমেন্ট অধ্যয়নকালে তারা একসঙ্গে ক্লাস, কিচেন প্রশিক্ষণ এবং আতিথেয়তা শিক্ষার কঠিন ও ব্যস্ত সময় পার করেছেন। খাবার ও সেবার শিল্প শেখার পাশাপাশি দু’জনের মধ্যেই মানুষের জন্য কাজ করার এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কঠিন সময়ে এই দুই সহপাঠী নিজেদের উদ্যোগে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান ফ্যামিলি’ নামে একটি মানবিক কার্যক্রম শুরু করেন। ‘মানবতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে’ এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা উদ্যোগটি মহামারির অনিশ্চিত সময়ে সহমর্মিতা, ঐক্য এবং কমিউনিটি সহায়তায় কাজ করে। পৃথিবীর দুই ভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই দুই তরুণ-তরুণীর বন্ধুত্বও যেন তাদের উদ্যোগের মূল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। বৃষ্টি বাংলাদেশের এবং ইদ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও, মানবসেবার অভিন্ন লক্ষ্য তাদ

শেফ জ্যাকেট ছেড়ে পরিবেশ সংরক্ষণের লড়াইয়ে ইদ্রিস-বৃষ্টি

সানওয়ে ইউনিভার্সিটি স্কুল অব হসপিটালিটি অ্যান্ড সার্ভিস ম্যানেজমেন্টে রন্ধনশিল্পের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু হয়েছিল ইদ্রিস হপি ও বৃষ্টি খাতুনের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে রূপ নিয়েছে মানবতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রায়।

ব্যাচেলর অব সায়েন্স (অনার্স) ইন কালিনারি ম্যানেজমেন্ট অধ্যয়নকালে তারা একসঙ্গে ক্লাস, কিচেন প্রশিক্ষণ এবং আতিথেয়তা শিক্ষার কঠিন ও ব্যস্ত সময় পার করেছেন। খাবার ও সেবার শিল্প শেখার পাশাপাশি দু’জনের মধ্যেই মানুষের জন্য কাজ করার এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।

jagonews24

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কঠিন সময়ে এই দুই সহপাঠী নিজেদের উদ্যোগে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান ফ্যামিলি’ নামে একটি মানবিক কার্যক্রম শুরু করেন। ‘মানবতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে’ এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা উদ্যোগটি মহামারির অনিশ্চিত সময়ে সহমর্মিতা, ঐক্য এবং কমিউনিটি সহায়তায় কাজ করে।

jagonews24

পৃথিবীর দুই ভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই দুই তরুণ-তরুণীর বন্ধুত্বও যেন তাদের উদ্যোগের মূল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। বৃষ্টি বাংলাদেশের এবং ইদ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও, মানবসেবার অভিন্ন লক্ষ্য তাদের এক সুতোয় বেঁধেছে।

jagonews24

পরবর্তীতে তাদের একাডেমিক যাত্রা নতুন ও অর্থবহ মোড় নেয়। কালিনারি ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তারা মাস্টার্স ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে ভর্তি হন। এ সময় পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, খাদ্যব্যবস্থা এবং খাদ্য অপচয় কমানোর বিষয়ে তাদের আগ্রহ আরও গভীর হয়।

jagonews24

বর্তমানে ইদ্রিস ও বৃষ্টি সানওয়ে ইউনিভার্সিটির জেফ্রি স্যাকস সেন্টার অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টে পিএইচডি গবেষণা করছেন। তাদের গবেষণার মূল বিষয় খাদ্য অপচয় রোধ, টেকসই উদ্ভাবন এবং সার্কুলার ইকোনমি বা পুনঃব্যবহারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা বৈশ্বিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃষ্টির গবেষণার মূল ক্ষেত্র খাদ্য বর্জ্যের পুনঃব্যবহার, কম্পোস্টিং ব্যবস্থা, মাটির উর্বরতা এবং টেকসই কৃষি। তার লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সমাধানের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করা।

jagonews24

অন্যদিকে ইদ্রিস খাদ্য অপচয় প্রতিরোধ এবং হাইড্রোজেন উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বর্জ্যকে কীভাবে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানিতে রূপান্তর করা যায়, সেই উদ্ভাবনী পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন।

রন্ধনশিল্পের শিক্ষার্থী থেকে টেকসই উন্নয়ন গবেষকে পরিণত হওয়ার এই যাত্রা সত্যিই অনন্য। একসময় যারা শেফ জ্যাকেট পরে রান্নাঘরে কাজ শিখতেন, আজ তারা টেকসই কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নের সমাধান তৈরিতে অবদান রাখছেন।

jagonews24

জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বর্জ্য এবং সম্পদ সংকটে ভরা বর্তমান বিশ্বে ইদ্রিস ও বৃষ্টি নতুন প্রজন্মের এমন এক প্রতিচ্ছবি, যারা প্রমাণ করছেন শিক্ষা, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতা একত্রে মানবতা ও পৃথিবীর জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow