শেরপুরে রেলিং ভেঙে জরাজীর্ণ ব্রিজ, চরম ঝুঁকিতে চার গ্রামের লাখো মানুষ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দহখানপুর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে কঙ্কালের মতো বের হয়ে আছে ভেতরের মরিচা ধরা রড। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, এমনকি ব্রিজ থেকে নিচে পড়ে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এখনো কোনো সংস্কার উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে স্থানীয়দের মাঝে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্রিজটি দিয়ে চকখানপুর, দহখানপুরসহ আশেপাশের অন্তত চারটি গ্রামের কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। শুধু সাধারণ মানুষের চলাচলই নয়, এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষি আবাদের ফসল আনা-নেওয়ার একমাত্র ভরসাও এই জরাজীর্ণ ব্রিজটি।ব্রিজটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে, একসাথে দুটি যানবাহন পারাপার হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একটি গাড়ি উঠলে অন্য পাশের সব গাড়িকেই অপেক্ষা করতে হয়। ভারী কৃষিপণ্য বোঝাই যানবাহন উঠলে পুরো ব্রিজটি কাঁপতে থাকে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে বড়

শেরপুরে রেলিং ভেঙে জরাজীর্ণ ব্রিজ, চরম ঝুঁকিতে চার গ্রামের লাখো মানুষ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দহখানপুর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম এক আতঙ্কের নাম।

দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে কঙ্কালের মতো বের হয়ে আছে ভেতরের মরিচা ধরা রড।

অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, এমনকি ব্রিজ থেকে নিচে পড়ে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এখনো কোনো সংস্কার উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্রিজটি দিয়ে চকখানপুর, দহখানপুরসহ আশেপাশের অন্তত চারটি গ্রামের কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। শুধু সাধারণ মানুষের চলাচলই নয়, এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষি আবাদের ফসল আনা-নেওয়ার একমাত্র ভরসাও এই জরাজীর্ণ ব্রিজটি।

ব্রিজটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে, একসাথে দুটি যানবাহন পারাপার হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একটি গাড়ি উঠলে অন্য পাশের সব গাড়িকেই অপেক্ষা করতে হয়। ভারী কৃষিপণ্য বোঝাই যানবাহন উঠলে পুরো ব্রিজটি কাঁপতে থাকে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর, হুরায়রা এবং রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, "আমাদের এই অঞ্চলের কৃষি আবাদ টিকিয়ে রাখার একমাত্র রাস্তা এই ব্রিজটি। কিন্তু এখন এটি দিয়ে চলাচল করতে বুক কাঁপে।অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে আমাদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে। একটি গাড়ি নিয়ে যখন ব্রিজে উঠি, তখন ভয়ে থাকি কখন যেন পুরো ব্রিজ ভেঙে নিচে পড়ে যাই। এর আগে এখানে দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানিও হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনের চোখ খোলে না।"

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, "অনেক আগের তৈরি এই ব্রিজগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে এই পুরনো ও জরাজীর্ণ ব্রিজগুলো পরিবর্তন করে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছি। তবে যেগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলোর কাজ আগে হাত দেওয়া হবে।"

উপজেলা প্রকৌশলী পর্যায়ক্রমে কাজ করার আশ্বাস দিলেও, স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, আর কোনো প্রাণহানির অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে এই দহখানপুর ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণ করা হোক। তা না হলে চার গ্রামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow