শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে শুভ সূচনা আইভরি কোস্টের

ফিলাডেলফিয়ায় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি দীর্ঘ সময় ধরে গোলশূন্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তার সবটুকুই জমা ছিল অন্তিম মুহূর্তের জন্য। দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল, বারবার কাঁপিয়েছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণ, এমনকি ক্রসবারও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কয়েকবার। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে তার করা একমাত্র গোলেই ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল ইকুয়েডরের সমর্থকদের হলুদ সমুদ্র। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই চেলসির মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেদো প্রথম শট নেন, যদিও সেটি লক্ষ্যে ছিল না। ইকুয়েডর শুরুতে আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও গোলের দেখা পায়নি। ১০ মিনিটে এনার ভ্যালেন্সিয়া সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। হিনকাপিয়ের নিচু ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে তিনি বল উড়িয়ে মারেন গ্যালারিতে। ২৩ মিনিটে জন ইয়েবোয়া প্রায় অবিশ্বাস্য এক গোল করে ফেলেছিলেন। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার আগবাদুর ভুলে বল কেড়ে নিয়ে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন তিনি

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে শুভ সূচনা আইভরি কোস্টের

ফিলাডেলফিয়ায় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি দীর্ঘ সময় ধরে গোলশূন্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তার সবটুকুই জমা ছিল অন্তিম মুহূর্তের জন্য। দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল, বারবার কাঁপিয়েছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণ, এমনকি ক্রসবারও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কয়েকবার। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে তার করা একমাত্র গোলেই ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল ইকুয়েডরের সমর্থকদের হলুদ সমুদ্র। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই চেলসির মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেদো প্রথম শট নেন, যদিও সেটি লক্ষ্যে ছিল না।

ইকুয়েডর শুরুতে আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও গোলের দেখা পায়নি। ১০ মিনিটে এনার ভ্যালেন্সিয়া সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। হিনকাপিয়ের নিচু ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে তিনি বল উড়িয়ে মারেন গ্যালারিতে।

২৩ মিনিটে জন ইয়েবোয়া প্রায় অবিশ্বাস্য এক গোল করে ফেলেছিলেন। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার আগবাদুর ভুলে বল কেড়ে নিয়ে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তার অসাধারণ প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

এরপর ৩০ মিনিটে আবারও ক্রসবারে আঘাত হানে ইকুয়েডর। কাইসেদোর দারুণ প্রেসিং থেকে বল পেয়ে ভিতে নিখুঁত পাস বাড়ান অ্যালান মিন্দার উদ্দেশে। প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া শট গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও বারই বাঁচিয়ে দেয় আইভরি কোস্টকে।

অন্যদিকে আইভরি কোস্টও পিছিয়ে ছিল না। ১৭ মিনিটে কেসিয়ের পাস থেকে তোরের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৩৫ মিনিটে নিকোলাস পেপের জোরালো প্রচেষ্টা জীবন বাজি রেখে ব্লক করেন অ্যালান ফ্রাঙ্কো।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আইভরিয়ানরা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে উইলফ্রিড সিঙ্গোর দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে বিরতিতে দুই দলই গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়ে।

প্রথমার্ধে প্রত্যাশিত গোলের হিসাবে এগিয়ে ছিল আইভরি কোস্ট। তবে স্কোরবোর্ডে কোনো পার্থক্য ছিল না।

দ্বিতীয়ার্ধেও নাটকীয়তা কমেনি। ৪৬ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া অসম্ভব কোণ থেকে শট নিয়ে সাইডনেটে বল জড়ান। ৫২ মিনিটে আবার ক্রসবার কাঁপায় আইভরি কোস্ট। দিয়োমান্দের ক্রস থেকে এলিয়ে ওয়াহির কাছের পোস্টের শট বার হয়ে ফিরে আসে। ম্যাচে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো ক্রসবারে আঘাত।

৬৮ মিনিটে ইকুয়েডর গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। প্লাতার শক্তিশালী বাঁকানো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।

সময়ের সঙ্গে ম্যাচ ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আইভরি কোস্টের হয়ে নায়ক হয়ে ওঠেন বদলি নামা আমাদ দিয়ালো।

৯০ মিনিটে ডিফেন্ডার উইলফ্রিড সিঙ্গো নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন। তার নিখুঁত কাটব্যাক বক্সের প্রান্তে অপেক্ষমাণ আমাদের কাছে পৌঁছে যায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ঠাণ্ডা মাথায় বাম পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের বাম কোণে। গোলরক্ষক গালিন্দেজের কোনো সুযোগই ছিল না।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। যোগ করা সময়ে কর্নার আদায় করে তারা শেষ চেষ্টা চালায়। তবে কসোনুর দৃঢ় রক্ষণ এবং আইভরিয়ানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স সেই আক্রমণ সামলে নেয়।

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে আলিসনের মতো নয়, এখানে ফোফানা এবং আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগই হয়ে ওঠে পার্থক্য গড়ে দেওয়া শক্তি। শেষ পর্যন্ত রেফারির বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আইভরি কোস্ট শিবির।

পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল সবচেয়ে বেশি। বিরতির সময় অপটা সুপারকম্পিউটার ড্রয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৩৭.৯ শতাংশ। কিন্তু ফুটবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়, মুহূর্তের খেলা। আর সেই মুহূর্তটি নিজের করে নিয়ে আইভরি কোস্টকে মূল্যবান তিন পয়েন্ট এনে দেন আমাদ দিয়ালো।

বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতে তাই দারুণ এক জয় পেল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ইকুয়েডরকে। তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার নাম হয়ে থাকল ক্রসবার, যা অন্তত দুইবার গোলবঞ্চিত করেছে লা ত্রিকে।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow