শেষ হচ্ছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি, নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নিউ স্টার্ট চুক্তি কার্যত শেষ হতে যাচ্ছে। এর ফলে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখার কোনো বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ নয়। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মস্কোর এই ঘোষণার পর জাতিসংঘ নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি ‘গুরুতর মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির মেয়াদ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক ওয়ারহেডের সীমা আরও ১২ মাস বজায় রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সাড়া দেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ধরে নিচ্ছি, নিউ স্টার্ট চুক্তির পক্ষগুলো আর এই চুক্তির আওতায় কোনো বাধ্যবাধকতা বা সমমর্যাদার ঘোষণায় আবদ্ধ নয়। আমাদের প্রস্তাবগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভুল এবং দুঃখজনক। নিউ স্টার্ট চুক্তি
রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নিউ স্টার্ট চুক্তি কার্যত শেষ হতে যাচ্ছে। এর ফলে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখার কোনো বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ নয়।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মস্কোর এই ঘোষণার পর জাতিসংঘ নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি ‘গুরুতর মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির মেয়াদ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক ওয়ারহেডের সীমা আরও ১২ মাস বজায় রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সাড়া দেয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ধরে নিচ্ছি, নিউ স্টার্ট চুক্তির পক্ষগুলো আর এই চুক্তির আওতায় কোনো বাধ্যবাধকতা বা সমমর্যাদার ঘোষণায় আবদ্ধ নয়। আমাদের প্রস্তাবগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভুল এবং দুঃখজনক।
নিউ স্টার্ট চুক্তিটি কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ওপর সীমা আরোপ করেছিল। এর আওতায় যেসব অস্ত্র প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামরিক ও শিল্পকেন্দ্রে আঘাত হানার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে সেগুলো ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা ছিল। এই চুক্তিটি ছিল ১০ বছরের জন্য। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ২০১০ সালে এতে স্বাক্ষর করেন। ২০১১ সালে এটি কার্যকর হয় এবং ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও পাঁচ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা বাড়াতে এবং শত শত অতিরিক্ত কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করতে পারবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বড় ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন। তবে জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়, হোক। আমরা আরও ভালো একটি চুক্তি করব। তিনি ভবিষ্যৎ যে কোনো পারমাণবিক আলোচনায় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
আলজাজিরা জানিয়েছে, বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের ৯০ শতাংশের বেশি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রাশিয়ার কাছে ছিল ৪ হাজার ৩০৯টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ হাজার ৭০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কাছে যথাক্রমে ২৯০ ও ২২৫টি অস্ত্র রয়েছে, আর চীনের কাছে রয়েছে আনুমানিক ৬০০টি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিউ স্টার্ট চুক্তির অবসান বিশ্বকে নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা আরও তীব্র হবে চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে।
ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রজেক্টের সহযোগী পরিচালক ম্যাট কর্ডা রয়টার্সকে বলেন, চুক্তিটি না থাকলে উভয় পক্ষই তাদের মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী বোমারু বিমানে শত শত অতিরিক্ত ওয়ারহেড যুক্ত করতে পারবে। সবচেয়ে চরম পরিস্থিতিতে এতে তাদের বর্তমান অস্ত্রভাণ্ডারের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রথম পোপ লিও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চুক্তির সীমা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সাপ্তাহিক প্রার্থনা সভায় তিনি বলেন, আমি জরুরি আবেদন জানাচ্ছি, এই চুক্তিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া যাবে না। ভয় ও অবিশ্বাসের যুক্তির বদলে আমাদের একটি যৌথ নৈতিকতায় ফিরতে হবে, যা মানবকল্যাণের পথে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর এই প্রথম আমরা এমন এক বিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছি, যেখানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বাধ্যতামূলক সীমা নেই।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, কয়েক দশকের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভেঙে পড়া এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিকে একটি নতুন সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। গুতেরেস বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ এখন রয়েছে।
What's Your Reaction?