শেষ ১০ মিনিটে যা হলো, বিশ্বাস করাই কঠিন!

ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরই যেন জেগে উঠল জার্মানি। টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে শেষ ১০ মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।  যোগ করা সময়ের গোলেই নিশ্চিত হয়েছে নকআউট পর্বের টিকিট, আর টরন্টো স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়েছে রুদ্ধশ্বাস এক ফুটবল নাটকের। টরন্টো স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দারুণ লড়াই জমে ওঠে। বলের দখল আর আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও প্রথম ধাক্কাটা খায় জার্মানি। ৩০তম মিনিটে দিওমান্দে, দিয়ালোদের আক্রমণ থেকে তৈরি সুযোগে ফ্রাঙ্ক কেসি কাছ থেকে জোরালো শটে গোল করে আইভরি কোস্টকে এগিয়ে নেন। গোল হজমের আগে এবং পরে জার্মানি দুইবার বল জালে জড়ালেও ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। ফাউলের কারণে একটি এবং আরেকটি আক্রমণে ফাউলের সিদ্ধান্তে দুটি গোলই বাতিল হয়ে যায়। হাভার্টজ, মুসিয়ালা, এনমেচারা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারেনি জার্মানি। বিরতির পরও শুরুতে কিছুটা চাপে ছিল ইউরোপের দলটি। আইভরি কোস্টই বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলছিল। এমন সময় ম্যাচের ৬০ মিনিটে বড় সিদ্ধান্ত নেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। একসঙ্গে তিন বদলি নামিয়ে তিনি ম্যাচের গতি পাল্টে দেন। ৬৮তম মিনিটে সে

শেষ ১০ মিনিটে যা হলো, বিশ্বাস করাই কঠিন!
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরই যেন জেগে উঠল জার্মানি। টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে শেষ ১০ মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।  যোগ করা সময়ের গোলেই নিশ্চিত হয়েছে নকআউট পর্বের টিকিট, আর টরন্টো স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়েছে রুদ্ধশ্বাস এক ফুটবল নাটকের। টরন্টো স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দারুণ লড়াই জমে ওঠে। বলের দখল আর আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও প্রথম ধাক্কাটা খায় জার্মানি। ৩০তম মিনিটে দিওমান্দে, দিয়ালোদের আক্রমণ থেকে তৈরি সুযোগে ফ্রাঙ্ক কেসি কাছ থেকে জোরালো শটে গোল করে আইভরি কোস্টকে এগিয়ে নেন। গোল হজমের আগে এবং পরে জার্মানি দুইবার বল জালে জড়ালেও ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। ফাউলের কারণে একটি এবং আরেকটি আক্রমণে ফাউলের সিদ্ধান্তে দুটি গোলই বাতিল হয়ে যায়। হাভার্টজ, মুসিয়ালা, এনমেচারা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারেনি জার্মানি। বিরতির পরও শুরুতে কিছুটা চাপে ছিল ইউরোপের দলটি। আইভরি কোস্টই বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলছিল। এমন সময় ম্যাচের ৬০ মিনিটে বড় সিদ্ধান্ত নেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। একসঙ্গে তিন বদলি নামিয়ে তিনি ম্যাচের গতি পাল্টে দেন। ৬৮তম মিনিটে সেই বদলিরই ফল। ডান প্রান্ত থেকে নাদিয়েম আমিরির ক্রস হাভার্টজকে ছুঁয়ে না গেলেও ঠিকই খুঁজে নেয় ডেনিজ উন্দাভকে। বক্সের ভেতর থেকে দারুণ ভলিতে সমতা ফেরান এই বদলি স্ট্রাইকার। সমতায় ফেরার পর ম্যাচ আরও খোলা হয়ে যায়। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৯০ মিনিটে আইভরি কোস্টের সামনে সুবর্ণ সুযোগ এলেও আদিংরা তা কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে জার্মানিও একাধিক আক্রমণে ফোফানাকে ব্যস্ত রাখে। অতিরিক্ত সময়ের ঘোষণা ছিল অন্তত ৬ মিনিট। তখনই শুরু হয় আসল নাটক। ৯৪তম মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার দারুণ এক পাস পেয়ে বক্সের ভেতরে বল নিয়ন্ত্রণে নেন উন্দাভ। প্রথম ছোঁয়াতেই ঘুরে দাঁড়িয়ে জোরালো শটে জালে বল জড়ান তিনি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় আইভরি কোস্ট, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে টরন্টো স্টেডিয়াম। গোলটি নিয়ে অফসাইডের প্রশ্ন উঠলেও রিপ্লেতে পরিষ্কার হয়, উন্দাভ অনসাইডেই ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জার্মানি। পুরো ম্যাচে আক্রমণে এগিয়েই ছিল জার্মানি। তাদের প্রত্যাশিত গোল ছিল ১.৮৩, যেখানে আইভরি কোস্টের ১.২৩। পরিসংখ্যানও বলে দেয়, শেষ পর্যন্ত জয়টা অযৌক্তিক ছিল না। এই জয়ে গ্রুপ ই থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে জার্মানি। শেষ ম্যাচে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে তারা, অথবা ইকুয়েডর না জিতলেও শীর্ষে থাকবে। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট এখন শেষ ম্যাচে ফলের জন্য চাপের মধ্যে পড়ে গেল। মাত্র ৫৬ মিনিট খেলে এই বিশ্বকাপে ৫টি গোল অবদান রেখে উন্দাভ এখন জার্মানির সবচেয়ে বড় ভরসা। প্রশ্ন এখন একটাই, পরের ম্যাচে কি তাকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে, নাকি আবারও সুপার সাব হিসেবেই নামবেন তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow