শেয়ানে শেয়ানে টক্কর, ‘ইগো’ হবে ভোটের ফ্যাক্টর

‘আমাদের এখানকার নির্বাচনী পরিবেশ ভালো। মারামারি হানাহানি নেই। ভোটে লড়াই হবে। যেই যাক, ব্যবধান বেশি হবে না। শহরে জামায়াতের সমর্থন বেশি। সদর দক্ষিণে বিএনপির।’ নিজ আসন নিয়ে এমন মত কুমিল্লা সিটির ১৩ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর্থার বাসিন্দা মো. হানিফের। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের আগমুহূর্তের আলোচনায় তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কান্দিরপাড়ের বাসিন্দা আবুল কালাম। তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের এখানে ভোটে প্রভাব থাকবে ইগোর। এলাকাকেন্দ্রিক নেতাদের অবমূল্যায়ন ও শহরকে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রভাবও থাকবে। কেমন প্রভাব থাকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সিটি করপোরেশন নিয়ে একটি আসন ছিল; কুমিল্লা-৬। লাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লাইমাই উপজেলা মিলে আরেকটি আসন ছিল; কুমিল্লা-১০। এবার লাঙ্গলকোট ও লালমাই এক করা হয়েছে। সদর দক্ষিণ উপজেলাকে শহরের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপি মনোনয়নে শহরের দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের মূল্যায়ন করেনি। জামায়াত কিন্তু ঠিকই তাদের শহর আমির দ্বীন মোহাম্মদকে দিয়েছে। বিএনপি সদর দক্ষিণ থেকে মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা

শেয়ানে শেয়ানে টক্কর, ‘ইগো’ হবে ভোটের ফ্যাক্টর

‘আমাদের এখানকার নির্বাচনী পরিবেশ ভালো। মারামারি হানাহানি নেই। ভোটে লড়াই হবে। যেই যাক, ব্যবধান বেশি হবে না। শহরে জামায়াতের সমর্থন বেশি। সদর দক্ষিণে বিএনপির।’

নিজ আসন নিয়ে এমন মত কুমিল্লা সিটির ১৩ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর্থার বাসিন্দা মো. হানিফের।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের আগমুহূর্তের আলোচনায় তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কান্দিরপাড়ের বাসিন্দা আবুল কালাম। তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের এখানে ভোটে প্রভাব থাকবে ইগোর। এলাকাকেন্দ্রিক নেতাদের অবমূল্যায়ন ও শহরকে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রভাবও থাকবে।

শেয়ানে শেয়ানে টক্কর, ‘ইগো’ হবে ভোটের ফ্যাক্টর

কেমন প্রভাব থাকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সিটি করপোরেশন নিয়ে একটি আসন ছিল; কুমিল্লা-৬। লাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লাইমাই উপজেলা মিলে আরেকটি আসন ছিল; কুমিল্লা-১০। এবার লাঙ্গলকোট ও লালমাই এক করা হয়েছে। সদর দক্ষিণ উপজেলাকে শহরের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপি মনোনয়নে শহরের দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের মূল্যায়ন করেনি। জামায়াত কিন্তু ঠিকই তাদের শহর আমির দ্বীন মোহাম্মদকে দিয়েছে। বিএনপি সদর দক্ষিণ থেকে মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জনপ্রিয় সজ্জন ব্যক্তি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুসহ অনেক নেতা যারা সংকটে সংগ্রামে ছিলেন, তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে এই এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দুঃখ আছে। যার কারণে শহরে বিএনপি ভোট কম পাবে আমার মনে হয়।

শাসনগাছার আড়াইউড়ার মো. স্বপন। পেশায় অটোরিকশাচালক। বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীসহ তার পরিবারের ভোট তিনটি। তারা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবেন। কেন- এর জবাবে তিনি বলেন, বহুত তো দেখলাম। কেউ তো কিছু করলো না। এবার চিন্তা করছি দাঁড়িপাল্লায় ভোটটা দিয়াম। শুধু আমি না, এবার দেখি দাঁড়িপাল্লার সাপোর্টার বেশি। সবাই কয় দিবো, আমিও দিয়াম।

শেয়ানে শেয়ানে টক্কর, ‘ইগো’ হবে ভোটের ফ্যাক্টর

অটোরিকশাচালক আব্দুর রহিম। ঢুলিপাড়ায় থাকেন ছয় বছর যাবত। ভোটার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর। তিনি বলেন, আমাদের ওদিকে (কুড়িগ্রাম) দাঁড়িপাল্লা যাবে। আমরাও ভোট দিবো পাল্লায়। কিন্তু এখানে (কুমিল্লা) ধানের শীষের কথা কয় সবাই।

কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এবং সিটি করপোরেশন নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসন। আসনটির আলেখারচর, শাসনগাছা, ঝাউতলা, কান্দিরপাড়, টমছমব্রিজ, চাক বাজার, মোগল টুলি, আদালত পাড়া, কাপ্তান বাজার, পাগলপাড়া, আমড়াতলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ব্যানার ফেস্টুনে নির্বাচনি আমেজ দৃশ্যমান। বিএনপির চেয়ে অনেক জায়গায় জামায়াতের প্রচারণা বেশি চোখে পড়েছে। পিছিয়ে নেই ইসলামি আন্দোলন ও ইসলামি ফ্রন্ট।

স্থানীয়দের দাবি, শহরে যানজট ও জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও চাঁদাবাজি মূলত এই আসনের বড় সমস্যা। ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক ও চোরাচালানের বড় রুট এখানে। এসব সমস্যার সমাধানে যোগ্য নেতা খুঁজছেন ভোটাররা। বেশিরভাগ নেতা এসব সমস্যা জিইয়ে রাখেন বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের।

শেয়ানে শেয়ানে টক্কর, ‘ইগো’ হবে ভোটের ফ্যাক্টর

কুমিল্লা-৬ আসনে (কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এবং সিটি করপোরেশন) নির্বাচন করছেন বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, জেএসডির ওবায়দুল কবির মোহন, বাসদের কামরুন্নাহার সাথী, গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুনুর রশীদ, মুক্তিজোটের আমির হোসেন ফরায়েজি, মুসলিম লীগের মো. ইয়াসিন, ইসলামি ফ্রন্টের মাছুম বিল্লাহ মিয়াজি।

নেতারা দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রচারণাও বেশ জমে উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এখানকার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী ও জামায়াতের কাজী দ্বীন মোহাম্মদ; দুজনেই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। মনিরুল হক চৌধুরী ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জাতীয় পার্টি হয়ে ২০০১ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেবার সদর দক্ষিণ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কুমিল্লায় জামায়াতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এলাকায় তার অবস্থানও বেশ শক্ত।

শেয়ানে শেয়ানে টক্কর, ‘ইগো’ হবে ভোটের ফ্যাক্টর

এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৩২ হাজার ৮৬১জন। পুরুষ ৩ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৪ এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ২১০জন। পোস্টাল ভোটার ১১ হাজার ৯১৬।

এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৯৬টি। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বা দখল হওয়ার আশঙ্কা ৭৪টি কেন্দ্রে।

এখানে ভোটারদের বড় আতঙ্ক লুট হওয়া অস্ত্র ও সীমান্ত দিয়ে আসা অস্ত্র। নির্বাচনে একটি পক্ষ এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে বলে কানাঘুষা আছে।

এসইউজে/এএমএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow