ষাট-সত্তরের দশকের ফুটবল তারকা শামসুজ্জোহা আর নেই

গাইবান্ধার ফুটবল অঙ্গনের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান হলো। ষাট ও সত্তরের দশকে মাঠ কাঁপানো প্রবীণ ফুটবলার শামসুজ্জোহা আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার প্রস্থানে শোকস্তব্ধ গাইবান্ধার ক্রীড়াঙ্গন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বুধবার (৪ মার্চ) স্টেশন জামে মসজিদে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে গাইবান্ধা শহরের ডেভিডকোং পাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও ক্রীড়াপ্রেমী রেখে গেছেন। একসময় গাইবান্ধার ফুটবল মানেই ছিল শামসুজ্জোহার দৃঢ় উপস্থিতি। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ছিলেন অটল প্রাচীরের মতো—নিখুঁত ট্যাকল, অসাধারণ পজিশনিং এবং নেতৃত্বগুণে দলকে দিতেন ভরসা। মাঠে তার দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা সহখেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করত, আর প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দিত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি গাইবান্ধা মহকুমা দল ও রংপুর জেলা দলের হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্য ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গাইবান্ধা ক্রীড়া সংস্থা তাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ওয়া

ষাট-সত্তরের দশকের ফুটবল তারকা শামসুজ্জোহা আর নেই

গাইবান্ধার ফুটবল অঙ্গনের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান হলো। ষাট ও সত্তরের দশকে মাঠ কাঁপানো প্রবীণ ফুটবলার শামসুজ্জোহা আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার প্রস্থানে শোকস্তব্ধ গাইবান্ধার ক্রীড়াঙ্গন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বুধবার (৪ মার্চ) স্টেশন জামে মসজিদে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে গাইবান্ধা শহরের ডেভিডকোং পাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও ক্রীড়াপ্রেমী রেখে গেছেন।

একসময় গাইবান্ধার ফুটবল মানেই ছিল শামসুজ্জোহার দৃঢ় উপস্থিতি। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ছিলেন অটল প্রাচীরের মতো—নিখুঁত ট্যাকল, অসাধারণ পজিশনিং এবং নেতৃত্বগুণে দলকে দিতেন ভরসা। মাঠে তার দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা সহখেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করত, আর প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দিত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

তিনি গাইবান্ধা মহকুমা দল ও রংপুর জেলা দলের হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্য ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গাইবান্ধা ক্রীড়া সংস্থা তাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন।

ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ওয়াজিউর রহমান রাফেল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “শামসুজ্জোহা শুধু একজন দক্ষ ফুটবলারই ছিলেন না, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ অমায়িক ও উদার। তিনি ইউএনও ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও খেলোয়াড় ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ক্লাবের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক অটুট ছিল।”

খেলাধুলার প্রতি তার নিবেদন ছিল আজীবনের। বয়সের ভার সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত মাঠে যেতেন, তরুণদের খেলতে উৎসাহ দিতেন এবং পরামর্শ দিতেন। তার অভিজ্ঞতা ও প্রেরণা নতুন প্রজন্মের জন্য ছিল এক মূল্যবান সম্পদ।

তার মৃত্যুতে গাইবান্ধার ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মাঠের সেই দৃঢ় প্রহরী আজ না থাকলেও, তার খেলোয়াড়ি জীবন, নেতৃত্ব ও মানবিক গুণাবলি গাইবান্ধার ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow