ঈদের ছুটিতে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো প্রাণভরে উপভোগ করছেন। দীর্ঘ সময় ঘুরে ক্লান্ত হয়ে উঠলে বিশ্রাম নিচ্ছেন আধুনিক ডিজাইনের বাংলো ও বেঞ্চে। সেখানে বসে উপভোগ করছেন দিঘির অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দর্শনার্থীরা ষাটগম্বুজ মসজিদ ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন।
মাগুরা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, এতোদিন শুধু বইয়ের পাতায় এবং সবার মুখে শুনেছি এ মসজিদে ষাটটি গম্বুজ রয়েছে। কিন্তু এবার বাস্তবে এসে দেখলাম, এখানে ৮১টি গম্বুজ রয়েছে। বইয়ের তথ্যের চেয়ে বাস্তবে দেখে আরও বেশি ভালো লেগেছে।
খুলনা থেকে ঘুরতে আসা কলেজছাত্র আসিফুর রহমান বলেন, বাগেরহাট আমার পাশের জেলা হলেও আগে কখনো এখানে ঘুরতে আসা হয়নি। শুধু বন্ধু-বান্ধবের মুখে শুনেছি। এবার ঈদ উপলক্ষে ষাটগম্বুজ মসজিদে ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে, মাঝে মধ্যে এখানে আসব।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ জাগো নিউজকে জানান, এখানে ঈদ পরবর্তী তিনদিনে ২০ হাজার ৪০০ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দেশি দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি দর্শনার্থীরাও এসেছেন। ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে ২৫ জন দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে এসেছেন।
যাদুঘরের বিভাগীয় প্রকাশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফারজান পারভিন মিতা জানান, ঈদুল ফিতর দিন টিকিট বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ৯ হাজার টাকার।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে। সবার প্রতি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিক।
ষাটগম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত হলেও এখানে মোট গম্বুজ রয়েছে ৮১টি। সারাদিন ঘুরতে প্রতিটি দর্শনার্থীর জন্য ৩০ টাকা, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য ১০ টাকা, বিদেশি পর্যটকের জন্য ৫০০ টাকা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর পর্যটকদের জন্য ২০০ টাকা টিকিট মূল্য নির্ধারিত রয়েছে।
আরএইচ/এমএস