সংঘর্ষে নিহতের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুট

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় প্রতিপক্ষের শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে দুই গ্রামে প্রতিপক্ষের শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে সাদিরপুর গ্রামের হোসাইন আহমেদের ধান শুকানোর খলার ওপর দিয়ে মাটি পরিবহনের ট্রলি যাওয়া নিয়ে একই গ্রামের আব্দুল লতিফের লোকজনের সঙ্গে বিতণ্ডা হয। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আব্দুল লতিফের ভাতিজা আহাদ নুর (২৬) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। সাদিরপুর গ্রামের হোসাইন মিয়া বলেন, ‘আমাদের লোকজন সবাই বাড়িছাড়া। এ সুযোগে গ্রামের প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের অন্তত ৫০-৬০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি, ধান-চাল, আসবাবপত্রসহ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ যাওয়ার পর লুটপাট বন্ধ হয়েছে।’ এদিকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রফিনগর গ্রামের আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই আব্দুল জিহাদের একটি রাজহাঁস ন

সংঘর্ষে নিহতের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুট

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় প্রতিপক্ষের শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে দুই গ্রামে প্রতিপক্ষের শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে সাদিরপুর গ্রামের হোসাইন আহমেদের ধান শুকানোর খলার ওপর দিয়ে মাটি পরিবহনের ট্রলি যাওয়া নিয়ে একই গ্রামের আব্দুল লতিফের লোকজনের সঙ্গে বিতণ্ডা হয। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আব্দুল লতিফের ভাতিজা আহাদ নুর (২৬) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

সাদিরপুর গ্রামের হোসাইন মিয়া বলেন, ‘আমাদের লোকজন সবাই বাড়িছাড়া। এ সুযোগে গ্রামের প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের অন্তত ৫০-৬০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি, ধান-চাল, আসবাবপত্রসহ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ যাওয়ার পর লুটপাট বন্ধ হয়েছে।’

এদিকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রফিনগর গ্রামের আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই আব্দুল জিহাদের একটি রাজহাঁস নিখোঁজ হওয়া নিয়ে গ্রামে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একই গ্রামের সফিক মিয়ার পক্ষের বাবলু মিয়াকে হাঁস চুরির ঘটনায় দায়ী করেন আব্দুল জিহাদ। এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে বাবলু মিয়ার ফুপাতো ভাই গিয়াস উদ্দিন (৫৫) বুকে টেঁটাবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রফিনগর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার গভীর রাতে আমাদের ৩০-৪০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। সবার ঘরের সবকিছু নিয়ে গেছে। গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি, ভিভি, ফ্রিজ, ট্রলি, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, ধান-চাল—কোনোকিছুই নেওয়ার বাকি রাখেনি। আমাদের পরিবারের মহিলা ও শিশুরা রাতেই প্রাণভয়ে অন্যদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।’

দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দেখছে। এরইমধ্যে দুই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

লিপসন আহমেদ/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow