সংবিধান সংশোধনীতে মুখ্য বিবেচ্য থাকবে জুলাই সনদ: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়েছে। আর বাকি বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা নেব। বিষয়গুলো সংসদের সামনে উত্থাপন করব। সেখানে এই সংশোধনীগুলো আনতে আমাদের মুখ্য বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই সনদ।  তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে এই সংশোধনীগুলোকে কিভাবে মানুষের কল্যাণে যুগোপযোগী, দেশের জন্য, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, আইনের শাসনের জন্য, মানবাধিকারের জন্য, ন্যায় বিচারের জন্য আনা সম্ভব হয়- সেটা আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে এবং জনগণের সাথে আলোচনার মধ্য দিয়েই সংসদে বিল আনবো।  বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আপিল বিভাগের রায়ের পর সচিবালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ ৫৪টি জায়গায় পরিবর্তন আনা হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট বাতিলের বিধান এবং ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) অনুচ্ছেদসহ বেশ কিছু বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিলও ঘোষণা করেন হাই

সংবিধান সংশোধনীতে মুখ্য বিবেচ্য থাকবে জুলাই সনদ: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়েছে। আর বাকি বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা নেব। বিষয়গুলো সংসদের সামনে উত্থাপন করব। সেখানে এই সংশোধনীগুলো আনতে আমাদের মুখ্য বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই সনদ। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে এই সংশোধনীগুলোকে কিভাবে মানুষের কল্যাণে যুগোপযোগী, দেশের জন্য, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, আইনের শাসনের জন্য, মানবাধিকারের জন্য, ন্যায় বিচারের জন্য আনা সম্ভব হয়- সেটা আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে এবং জনগণের সাথে আলোচনার মধ্য দিয়েই সংসদে বিল আনবো। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আপিল বিভাগের রায়ের পর সচিবালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ ৫৪টি জায়গায় পরিবর্তন আনা হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট বাতিলের বিধান এবং ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) অনুচ্ছেদসহ বেশ কিছু বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিলও ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের পুরোটা বাতিল না করে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়সহ বাকি বিষয়গুলো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল যে সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল। যে সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া আনা হয়েছিল। যেগুলো নিয়ে আমরা বলেছিলাম এগুলো সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনে মিস্টার বদরুল আলম মজুমদার সহ যারা এই মামলা করেছিলেন এবং ইন্টারভেনার হিসেবে যারা ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তখন আমাদের নির্দেশনা ছিল যে, এই সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের মানুষের জীবনে বোঝা হয়ে আছে। গণতন্ত্রের পথে অন্তরায়। 

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবশ্যম্ভাবী অন্তর্বর্তী সরকারের বিকল্প কিছু নাই। তখন আমরা সাবমিশন দিয়েছিলাম সেই লাইনেই। আমরা বলেছিলাম ৭(ক) ৭(খ) রাষ্ট্রদ্রোহিতা- এটা অপব্যবহার করা হবে। এটা ফ্যাসিবাদকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর একটা নীলনকশা। তো সেই জায়গাগুলো হাইকোর্ট বিভাগ বিবেচনায় নিয়ে কিছু বিষয় সংবিধানের স্বার্থে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিল করে দিলেন। সংশোধনীগুলোর কিছু বিষয়ে বললেন, এগুলোর ব্যাপারে সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে। আইনের সাধারণ ব্যাখ্যা হলো সংসদ এটা সিদ্ধান্ত নেবে-এটা বলার অবকাশ রাখে না। কারণ সংসদ ইচ্ছা করলে এটা যেকোনো সময় বাতিল করতে পারে। তা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে যেগুলো বাতিল করেননি সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেছে। আপিল বিভাগও একই কথা বলে দিয়েছেন, যে এটা পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন। আর হাইকোর্ট যেগুলো অবৈধ ঘোষণা করছে, সেগুলো বহাল রেখেছে।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের যে যে জায়গায় সংস্কার দরকার, যে যে জায়গায় সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন দরকার সব জায়গায়  তা করার চেষ্টা করবো। রায় এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে জন আকাঙ্ক্ষা কে পূরণ করে পাবলিক কনসালটেশনের মধ্য দিয়ে আইন পাশ করবো। আমরা যেমন মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন পাবলিক কনসালটেশনে, একটার পর একটা যাচ্ছি।

আইনমন্ত্রী বলেন, উদাহরণ হিসেবে বললে মানবাধিকার কমিশন আইনের আমরা কনসালটেশন প্রথম যেটা করলাম সেখানে আমরা মানবাধিকার সংগঠন গুলোকে ডেকেছি। ডোনার এজেন্সি গুলোকে ডেকেছি। আমরা কূটনীতিকদের ডেকেছি। আমরা সিনিয়র আইনজীবীদের ডেকেছি। ভুক্তভোগী পরিবারদেরকে ডেকেছি। এটা হলো একটা কনসালটেশন। একই সাথে এর সাথে সম্পৃক্ত প্রশাসনিক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদেরও একটা মতামত থাকে। থাকতে পারে। তাদেরকে তো আমরা ইগনোর করতে পারব না। আপনার যদি সাংবাদিক সংক্রান্ত কোনো মামলা হয় আমার পার্সোনাল ওপিনিয়ন আমরা বলে দিয়েছি। যে আপনাদের সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলে আমরা একটা আইন চাপায় দেবো না। কারণ আমার মনে হলো যে একটা আইন করে দিই, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাদেরও তো বক্তব্য থাকতে পারে। এসময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে ইনশাল্লাহ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow