সংসদে উপস্থাপন না হওয়া অধ্যাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তাই সেগুলো এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। কিছু মহল সরকার এসব ‘অধ্যাদেশ বাদ দিয়েছে’ বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।  তার মতে, আইনগুলোর প্রস্তাবনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার  বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও অনেকে তা উপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ৩টায় সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন-পরবর্তী বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। বিশেষ কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে গত ২ এপ্রিল সংসদে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত কয়ে

সংসদে উপস্থাপন না হওয়া অধ্যাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তাই সেগুলো এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। কিছু মহল সরকার এসব ‘অধ্যাদেশ বাদ দিয়েছে’ বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। 

তার মতে, আইনগুলোর প্রস্তাবনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার  বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও অনেকে তা উপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ৩টায় সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন-পরবর্তী বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। বিশেষ কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে গত ২ এপ্রিল সংসদে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং তা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন,  ১১০টি অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে আনতে হয়েছে, যা ৯১টি বিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় এবং সেগুলো সংসদে পাস হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণীত এসব আইনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা রাখা হয়নি; বরং যেসব অধ্যাদেশে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন, সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

মন্ত্রী বলেন, ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু আগের মতোই পাস করা হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে পাস করা হয়েছে এবং ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ-সংক্রান্ত বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেসব অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল হিসেবে আনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যেও সংশ্লিষ্ট আইনের প্রস্তাবনায় (প্রিঅ্যাম্বল) স্পষ্টভাবে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কথা তুলে ধরেন। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বিলেই উল্লেখ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই এসব আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার কোথাও কোনো অস্পষ্টতা রাখেনি। সংসদের মাধ্যমে বিল উপস্থাপন করা মানেই সেটি আইনে পরিণত হয়। এমনকি রহিতকরণ বিলও আইনের অংশ হয়ে যায়, যেখানে পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিশ্রুতি থাকে। 

গুমসংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের সংজ্ঞা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আইনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। একইভাবে মানবাধিকার কমিশন আইনের কিছু ধারা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে তদন্ত, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এসব বিষয় নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে পরামর্শসভা আয়োজন করা হতে পারে।

২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জারি হওয়া ১২২টি অধ্যাদেশের মধ্যে মাত্র ৫৪টি আইনে পরিণত হয়েছিল, বাকিগুলো বাতিল হয়ে যায়। তুলনামূলকভাবে বর্তমান সরকার অধিকসংখ্যক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করেছে, উদাহরণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেসব অধ্যাদেশ এখনো আইনে পরিণত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা রয়েছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow