সংসদে ব্যাংক দখলের দীর্ঘ আলোচনা জাতি প্রত্যাশা করে না : গাজী আতাউর

ব্যাংক দখল নিয়ে সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনা জাতি প্রত্যাশা করে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, দেশের আর্থিকখাত ভঙ্গুর হয়ে আছে, বৈশ্বিক জটিলতায় জ্বালানিখাত মহাসংকটে নিপতিত, দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটছে না, কর্মসংস্থানে কোনো আশাবাদ নাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুকতার চূড়ান্ত সীমা স্পর্শ করেছে। সীমান্তে পুশইনের মতো বহুরাষ্ট্রীয় সমস্যা আমাদের সামনে। এমন সময় একটি ব্যাংকের রাজনৈতিক দখল ও প্রতি দখল নিয়ে সংসদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা জাতি প্রত্যাশা করে না। বুধবার (১০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিকখাত ব্যবস্থাপনায় সুশাসনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গাজী আতাউর বলেন, দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত ও টেকসই করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক রেগুলেটরকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। তাকে সুনাম ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈ

সংসদে ব্যাংক দখলের দীর্ঘ আলোচনা জাতি প্রত্যাশা করে না : গাজী আতাউর
ব্যাংক দখল নিয়ে সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনা জাতি প্রত্যাশা করে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, দেশের আর্থিকখাত ভঙ্গুর হয়ে আছে, বৈশ্বিক জটিলতায় জ্বালানিখাত মহাসংকটে নিপতিত, দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটছে না, কর্মসংস্থানে কোনো আশাবাদ নাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুকতার চূড়ান্ত সীমা স্পর্শ করেছে। সীমান্তে পুশইনের মতো বহুরাষ্ট্রীয় সমস্যা আমাদের সামনে। এমন সময় একটি ব্যাংকের রাজনৈতিক দখল ও প্রতি দখল নিয়ে সংসদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা জাতি প্রত্যাশা করে না। বুধবার (১০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিকখাত ব্যবস্থাপনায় সুশাসনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গাজী আতাউর বলেন, দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত ও টেকসই করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক রেগুলেটরকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। তাকে সুনাম ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের প্রত্যাশা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনীতি নিরপেক্ষভাবে অর্থনীতির স্বার্থেই পরিচালিত হবে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক কোনো অনিয়ম হলে বা সুশাসনের কোনো ঘাটতি হলে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার ও বিরোধীদল পুরো তর্কটাকে রাজনীতিকরণ করেছে। জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটা ব্যাংককে কেন্দ্র করে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। একদল ব্যাংকের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছে, আরেকদল তা সাব্যস্ত করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, এটা অহেতুক একটি বিতর্ক যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে জাতির মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিকখাত ব্যবস্থাপনায় রাজনীতি না, বরং সুশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংককে ব্যাংক হিসেবেই কাজ করতে দিতে হবে। কোনো দলের কর্মী তোষণ বা নির্বাচনী ফান্ড হিসেবে না। একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংককেও বিষয়টি সুরাহা করতে হবে আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে; কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিতে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow