সকালে দুধ পান করছেন? আগে জেনে নিন
অনেকেরই দিনের শুরু হয় এক গ্লাস দুধ দিয়ে। সকালের নাশতার আগে দুধ পান করলে শরীরে পুষ্টির জোগান মেলে-এমন ধারণা দীর্ঘদিনের। কারণ দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা হাড়, দাঁত ও পেশির সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খালি পেটে দুধ পান করা সবার জন্য সমান উপকারী নয়। ব্যক্তিভেদে এর সুফল যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। অন্যদিকে ৫১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের এবং ৭১ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা বেড়ে প্রতিদিন ১,২০০ মিলিগ্রামে পৌঁছে। আরও পড়ুন পিরিয়ডে পেট ফাঁপা? জেনে নিন সহজ সমাধান দ্রুত পুষ্টি ও শক্তির জোগান সকালে খালি পেটে এক গ্লাস দুধ শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন শরীরের কোষ ও টিস্যু গঠন এবং ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ
অনেকেরই দিনের শুরু হয় এক গ্লাস দুধ দিয়ে। সকালের নাশতার আগে দুধ পান করলে শরীরে পুষ্টির জোগান মেলে-এমন ধারণা দীর্ঘদিনের। কারণ দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা হাড়, দাঁত ও পেশির সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খালি পেটে দুধ পান করা সবার জন্য সমান উপকারী নয়। ব্যক্তিভেদে এর সুফল যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। অন্যদিকে ৫১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের এবং ৭১ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা বেড়ে প্রতিদিন ১,২০০ মিলিগ্রামে পৌঁছে।

পিরিয়ডে পেট ফাঁপা? জেনে নিন সহজ সমাধান
দ্রুত পুষ্টি ও শক্তির জোগান
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস দুধ শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন শরীরের কোষ ও টিস্যু গঠন এবং ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও সহায়ক।
সারারাতের পর শরীরকে পুনরায় আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে
দুধের প্রায় ৯০ শতাংশই পানি। তাই দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পর শরীরে যে তরলের ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণে দুধ কিছুটা সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিপাকক্রিয়া সচল রাখা এবং সারাদিন কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে কারণে দিনের শুরুতে দুধ পান করলে শরীরকে পুনরায় সতেজ অনুভব করা সম্ভব হতে পারে।

খুব বেশি পরিষ্কার থাকাও হতে পারে ক্ষতিকর
হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুধ পাকস্থলীর আবরণে আরামদায়ক প্রভাব ফেলে এবং হজমে সহায়তা করে। তাই যাদের দুধে কোনো ধরনের অসহিষ্ণুতা বা হজমজনিত সমস্যা নেই, তারা সকালে খালি পেটে দুধ পান করলে উপকার পেতে পারেন।
খালি পেটে দুধ পান করার সম্ভাব্য অসুবিধা
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায় সমস্যা বাড়তে পারে
যাদের ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স রয়েছে, তাদের জন্য খালি পেটে দুধ পান করা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় ডায়রিয়া, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরে ল্যাকটেজ নামের যে এনজাইম দুধের ল্যাকটোজ ভাঙতে সাহায্য করে, তার ঘাটতি থাকলে এই সমস্যা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবের পর বিশ্বের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের ল্যাকটোজ হজমের ক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে পূর্ব এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মাত্রায় এ সমস্যায় ভোগেন।
রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে
দুধে প্রাকৃতিকভাবে ল্যাকটোজ নামের শর্করা থাকে। খালি পেটে এটি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন সংবেদনশীলতায় ভোগা ব্যক্তিদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হলে তা দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্ক্রিন টাইম কমানোর ১০টি কার্যকর উপায়
অন্যান্য খনিজের শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে
অতিরিক্ত পরিমাণে দুধ পান করলে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে আয়রন ও জিঙ্কের শোষণ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অথচ এই দুই খনিজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা, রক্তে অক্সিজেন পরিবহন এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। তাই দুধ অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত।
খালি পেটে দুধ পান করা অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে, আবার কারও জন্য অস্বস্তির কারণও হতে পারে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা, হজমক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা বিবেচনা করে দুধ পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে ভালো। বিশেষ করে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে দুধ পান করা নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ
জেএস/
What's Your Reaction?
