সত্য হয়ে থাকা এক স্বপ্ন

আমি বললাম, ‌‘কবি, আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন?’রবীন্দ্রনাথ কলম থামিয়ে ধীরে মুখ তুললেন। নদীর জলে তখন গোধূলির রং মিশে গেছে। তাঁর চোখে যেন দূর আকাশের নীল বিষাদ।তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘চিনতে পারছি না কিন্তু তোমাকে অচেনাও মনে হচ্ছে না। মানুষকে আমি নাম দিয়ে মনে রাখি না, তার স্বপ্ন দিয়ে মনে রাখি।’ আমি বিস্ময়ে চুপ করে রইলাম। বাতাসে পদ্মার জল দুলে উঠলো। দূরে কোথাও বাঁশির মতো এক মাঝির সুর ভেসে এলো।আমি বললাম, ‘কবি, আপনার লেখা পড়ে মনে হয় আপনি মানুষের মনের সব কথা জানেন। অথচ মানুষ আপনাকে কতভাবে ভুল বোঝে!’রবীন্দ্রনাথ নদীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ভুল বোঝাবুঝিই মানুষের নিয়তি। যে সত্য হৃদয়ে থাকে, তাকে সবাই দেখতে পায় না। যেমন স্বপ্নকে কেউ সত্য বলে মানতে চায় না, অথচ অনেক সময় স্বপ্নই মানুষের গভীরতম সত্য।’ আরও পড়ুনঅনুগল্প: এ ঋণ কী করে শোধ করবো  আমি সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তাহলে আমার সঙ্গে আপনার এই সাক্ষাৎ—এটাও কি সত্যি?’তিনি আবার হাসলেন। সেই হাসিতে সন্ধ্যার আলো কেঁপে উঠলো। বললেন, ‘তুমি যাকে সত্যি বলে অনুভব করো, পৃথিবীর কোনো অবিশ্বাস তাকে মিথ্যে করতে পারে না।’ এরপর হঠাৎ চারপাশে কুয়াশা নেমে এলো। নদী, নৌকা, কবি—স

সত্য হয়ে থাকা এক স্বপ্ন

আমি বললাম, ‌‘কবি, আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন?’
রবীন্দ্রনাথ কলম থামিয়ে ধীরে মুখ তুললেন। নদীর জলে তখন গোধূলির রং মিশে গেছে। তাঁর চোখে যেন দূর আকাশের নীল বিষাদ।
তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘চিনতে পারছি না কিন্তু তোমাকে অচেনাও মনে হচ্ছে না। মানুষকে আমি নাম দিয়ে মনে রাখি না, তার স্বপ্ন দিয়ে মনে রাখি।’

আমি বিস্ময়ে চুপ করে রইলাম। বাতাসে পদ্মার জল দুলে উঠলো। দূরে কোথাও বাঁশির মতো এক মাঝির সুর ভেসে এলো।
আমি বললাম, ‘কবি, আপনার লেখা পড়ে মনে হয় আপনি মানুষের মনের সব কথা জানেন। অথচ মানুষ আপনাকে কতভাবে ভুল বোঝে!’
রবীন্দ্রনাথ নদীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ভুল বোঝাবুঝিই মানুষের নিয়তি। যে সত্য হৃদয়ে থাকে, তাকে সবাই দেখতে পায় না। যেমন স্বপ্নকে কেউ সত্য বলে মানতে চায় না, অথচ অনেক সময় স্বপ্নই মানুষের গভীরতম সত্য।’

আমি সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তাহলে আমার সঙ্গে আপনার এই সাক্ষাৎ—এটাও কি সত্যি?’
তিনি আবার হাসলেন। সেই হাসিতে সন্ধ্যার আলো কেঁপে উঠলো। বললেন, ‘তুমি যাকে সত্যি বলে অনুভব করো, পৃথিবীর কোনো অবিশ্বাস তাকে মিথ্যে করতে পারে না।’

এরপর হঠাৎ চারপাশে কুয়াশা নেমে এলো। নদী, নৌকা, কবি—সব ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যেতে লাগলো। আমি শুধু শুনতে পেলাম তাঁর কণ্ঠস্বর—‘মানুষের জীবনে কিছু সাক্ষাৎ থাকে, যা কখনো ঘটে না—তবু সারাজীবন সত্য হয়ে থাকে।’

ঘুম ভাঙার পর অনেকক্ষণ আমি জানালার পাশে বসে ছিলাম। বাইরে ভোরের আলো ফুটছিল। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল, আমি যেন এখনো সেই সোনার তরীর ধারে দাঁড়িয়ে আছি।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow