সদরঘাট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে শোকার্ত নেতাকর্মীরা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় শরিক হতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপি ও নেতাকর্মীদের একটি অংশ নিভৃতে রাজধানীতে প্রবেশ করছেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক আড়ম্বর বা উচ্চকণ্ঠ ছাড়াই এক গভীর বিষণ্নতা আর নিস্তব্ধতা সঙ্গী করে তারা পা বাড়াচ্ছেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে। সোমবার সকালে সদরঘাট টার্মিনালে দেখা গেছে এক ভিন্নধর্মী গুমোট পরিবেশ। হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তে কিছুটা বিলম্ব হলেও যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল ধৈর্যের ছাপ। কনকনে ঠান্ডার কারণে কষ্ট হলেও মানুষগুলো সুশৃঙ্খলভাবে লঞ্চ থেকে নেমে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। টার্মিনালজুড়ে আজ কোনো কোলাহল নেই। সবার চলনে এক ধরনের শোকাতুর গাম্ভীর্য পরিলক্ষিত দেখা গেছে। লঞ্চ থেকে নামা সাধারণ যাত্রীদের অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা আয়োজনে নয়, ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তারা এই বিদায় বেলায় উপস্থিত হতে চেয়েছেন। ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা মো. সোলেমান জাগো নিউজকে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত। শীতের কষ্টে লঞ্চে আসতে দেরি হয়েছে, শরীরও ভালো ন

সদরঘাট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে শোকার্ত নেতাকর্মীরা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় শরিক হতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপি ও নেতাকর্মীদের একটি অংশ নিভৃতে রাজধানীতে প্রবেশ করছেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক আড়ম্বর বা উচ্চকণ্ঠ ছাড়াই এক গভীর বিষণ্নতা আর নিস্তব্ধতা সঙ্গী করে তারা পা বাড়াচ্ছেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে।

সোমবার সকালে সদরঘাট টার্মিনালে দেখা গেছে এক ভিন্নধর্মী গুমোট পরিবেশ। হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তে কিছুটা বিলম্ব হলেও যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল ধৈর্যের ছাপ। কনকনে ঠান্ডার কারণে কষ্ট হলেও মানুষগুলো সুশৃঙ্খলভাবে লঞ্চ থেকে নেমে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। টার্মিনালজুড়ে আজ কোনো কোলাহল নেই। সবার চলনে এক ধরনের শোকাতুর গাম্ভীর্য পরিলক্ষিত দেখা গেছে।

লঞ্চ থেকে নামা সাধারণ যাত্রীদের অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা আয়োজনে নয়, ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তারা এই বিদায় বেলায় উপস্থিত হতে চেয়েছেন।

সদরঘাট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে শোকার্ত নেতাকর্মীরা

ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা মো. সোলেমান জাগো নিউজকে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত। শীতের কষ্টে লঞ্চে আসতে দেরি হয়েছে, শরীরও ভালো নেই। কিন্তু ম্যাডামের জন্য মনের ভেতর একটা টান অনুভব করছি। তাই নীরবেই জানাজায় শরিক হতে এসেছি।

পটুয়াখালী থেকে আসা আরেক যাত্রী আব্দুল হাই জানান, তিনি এবং তার কয়েকজন পরিচিতজন ছোট একটি দল হয়ে এসেছেন। তার ভাষায়, আমরা কোনো মিছিল বা স্লোগান দিতে আসিনি। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো সম্মান জানিয়ে দোয়া করা আমাদের উদ্দেশ্য। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে জানাজায় শরিক হতে পারলেই নিজেকে সার্থক মনে করব।

সকাল ৮টা পর্যন্ত সদরঘাট এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কোনো বড় ধরনের জমায়েত বা স্লোগান লক্ষ্য করা যায়নি।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বিভিন্নভাবে কিছু নেতাকর্মী অত্যন্ত শান্তভাবে সাধারণ মানুষের স্রোতে মিশে গন্তব্যের দিকে যাত্রা করছেন। কোনো প্রকার উন্মাদনা বা আতিশয্য ছাড়াই একটি স্নিগ্ধ ও শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই মানুষগুলো রাজধানীর কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

সদরঘাট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে শোকার্ত নেতাকর্মীরা

সদরঘাটে কথা হয় বরিশাল থেকে আসা ইউনিয়ন পর্যায়ের এক প্রবীণ কর্মী আকবর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ম্যাডামের মৃত্যুতে আমাদের মাথার ওপর থেকে যেন ছাতা সরে গেলো। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি, দেশ ছাড়েননি। আজ এই হাড়কাঁপানো শীতেও আমরা এসেছি কেবল তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। আমাদের আর চাওয়ার কিছু নেই, শুধু তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

পটুয়াখালী থেকে আসা আরেক মাঠ পর্যায়ের সক্রিয় কর্মী সোহেল রানা বলেন, আমরা কোনো মিছিল বা জমায়েত হয়ে আসিনি। বড় কোনো শোডাউনের চেয়েও ম্যাডামকে শেষবারের মতো দেখা আর জানাজায় দাঁড়ানোটা এখন বেশি জরুরি। নেত্রীর বিদায়ে মনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোদিন পূরণ হবার নয়।

ভোলা থেকে আসা ছোট একটি দলের নেতৃত্বে থাকা রকিবুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, শীতের কারণে লঞ্চ আসতে দেরি হলেও আমাদের সংকল্প ছিল অটুট। আমরা সাধারণ মানুষের মতো করেই নীরবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যাব। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি কারাবরণ আর নির্যাতন সহ্য করেছেন আমাদের জন্য। তার জন্য দোয়া করাই এখন আমাদের একমাত্র কর্তব্য।

এমডিএএ/টিএইচকিউ/এমআরএম/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow