সন্তানের ক্ষুধা আর ঘর ভাড়া মেটাতেই মাথার চুল বিক্রি করেন রেহানা
২৯ বছর বয়সী রেহানা খাতুন। চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছে, মুখে আঘাতের স্পষ্ট দাগ। স্বামীর নির্যাতনের চিহ্ন এগুলো। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে বছরের পর বছর চেষ্টা তার। মানুষের বাসায় কাজ, রাস্তার কাজ সবই করেন তিনি। মাদকাসক্ত স্বামী আবু জাফরকে নিয়ে থাকতেন ভাড়া বাসাতে। কিন্তু ভাড়া দুই মাস বাকি থাকায় বাসা ছাড়তে হয় তাদের। ভাড়া মেটাতে আর সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে মাথার চুল কেটে বিক্রি করেছেন রেহানা। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন ঠাঁই হয়েছে রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার রেল লাইনের পাশে। সেখানে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ-খুঁটি দিয়ে ঘর তুললেও নেই বেড়া ও চালে ছাউনি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, খেয়ে না খেয়ে চলছে রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাটের রামপালের সন্তোষপুর এলাকায় খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে বসে কথা হয় দারিদ্র্যের আঘাতে জর্জরিত রেহানা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি সন্তোষপুর গ্রামে সাত বছর ধরে ভাড়া থাকি। বিয়ের আগে ভাবতেও পারিনি যে, বিয়ের পর আমার জীবন এমন হবে। বিয়ের পর স্বামীর একের পর এক নির্যাতন, ঝামেলা, অশান্তি হতেই আছে। কয়েকবার সালিশ করেও সমাধান
২৯ বছর বয়সী রেহানা খাতুন। চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছে, মুখে আঘাতের স্পষ্ট দাগ। স্বামীর নির্যাতনের চিহ্ন এগুলো। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে বছরের পর বছর চেষ্টা তার। মানুষের বাসায় কাজ, রাস্তার কাজ সবই করেন তিনি। মাদকাসক্ত স্বামী আবু জাফরকে নিয়ে থাকতেন ভাড়া বাসাতে। কিন্তু ভাড়া দুই মাস বাকি থাকায় বাসা ছাড়তে হয় তাদের। ভাড়া মেটাতে আর সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে মাথার চুল কেটে বিক্রি করেছেন রেহানা।
দুই সন্তানকে নিয়ে এখন ঠাঁই হয়েছে রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার রেল লাইনের পাশে। সেখানে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ-খুঁটি দিয়ে ঘর তুললেও নেই বেড়া ও চালে ছাউনি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, খেয়ে না খেয়ে চলছে রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাটের রামপালের সন্তোষপুর এলাকায় খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে বসে কথা হয় দারিদ্র্যের আঘাতে জর্জরিত রেহানা খাতুনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, আমি সন্তোষপুর গ্রামে সাত বছর ধরে ভাড়া থাকি। বিয়ের আগে ভাবতেও পারিনি যে, বিয়ের পর আমার জীবন এমন হবে। বিয়ের পর স্বামীর একের পর এক নির্যাতন, ঝামেলা, অশান্তি হতেই আছে। কয়েকবার সালিশ করেও সমাধান হয়নি। এই যে আমার মুখে মাইরের দাগ, চোখে রক্ত জমাট ও মাথায় ফুলে গেছে আগা-মাথা। আমার পিঠে, কোমরে মাইরের আঘাত। ঠিক মতো হাঁটতে পারি না। আমাকে প্রায় সময়ই ধরে মারে। এই মারামারি আর দুই মাস ঘর ভাড়া বাকি থাকায় বাড়ির মালিক ঘরের মাল জিনিস রেখে আমাদের নামিয়ে দেয়। আমি ঘর ভাড়া দিতে মাথার চুল কেটে বিক্রি করে দিছি। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা আমাকে রেললাইনের এই জায়গাটা দিয়েছে ঘর বাঁধার জন্য।
পরে আমি স্বামীকে বললে উনি নিষেধ করে এবং বলে যে, ঐ জায়গায় ঘর বাঁধলে বাচ্চাকাচ্চা পানিতে পড়তে পারে। আমি তাকে দেশের বাড়িতে নিতে বললেও নেয় না। তখন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ খুঁটি দিয়ে ঘর তুলেছি। কোনো বেড়া বা ছাউনি দিতে পারিনি। এই অবস্থায় এখানে থাকছি। ঠিকমতো সন্তানের মুখেও খাবার দিতে পারি না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকি। তাই চুল বিক্রি করে ঘর ভাড়া ৫০০ দিয়েছি আর ছেলে মেয়েকে খাওয়াইছি।
রেহানার খাতুনের স্বামী দিনমজুর আবু জাফরের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। কাজের সুবাদে প্রায় আট বছর আগে বাগেরহাটে এসে রেহানা খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। তবে সুখের হয়নি তাদের সংসার। স্বামীর মাদকাসক্তির কারণে সংসারে অভাব-অনটনের পাশাপাশি প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। অভাবের পাশাপাশি স্বামীর অত্যাচারও সহ্য করতে হয় অসহায় এ নারীকে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভাবী রেহানাকে উপযুক্ত সহযোগিতার আবেদন করেছেন স্থানীয়রা।
নির্যাতনের কথা স্বীকার করে রেহানার স্বামী আবু জাফর বলেন, আমি মাদকাসক্ত ছিলাম। দুই মাস হয়েছে আমি ভালো হয়ে গেছি। আমি নামাজ পড়াও শুরু করেছি। আমি রেহানার কাছে মাফ ও চেয়েছি। আমাকে সুযোগ দিলে আমি রেহানার সঙ্গেই থাকতে চাই। আমি দুই মাস অসুস্থ থাকায় আয় করতে পারিনি। তাই বাড়ি ভাড়া বাকি পড়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, রেহানাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরেই অভাব অনটন। স্বামী নিয়মিত আয় করে না। স্বামী মাদকাসক্ত। এর জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে এই ঝগড়া-বিবাদ, আর ঘরভাড়া দিতে না পারায় তাদের ভাড়া বাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় বাড়ির মালিক। তখন রেহানা বাড়িভাড়া দিতে চুল বিক্রি করে।
বিষয়টি শুনে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। একজন মাকে যদি সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং মাথা গোঁজার জন্য নিজের চুল বিক্রি করতে হয়, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে। আমরা চাই, রেহানা ও তার দুই সন্তান যেন নিরাপদে থাকতে পারে। তাদের জন্য একটি স্থায়ী ঘর ও নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা হলে হয়ত তারা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবে।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে রেহানা খাতুনের অসহায়ত্বের খবর জানতে পেরে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি স্থায়ী ঘর এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশ বিদেশের অনেক মানুষও রেহানার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার প্রাপ্ত অর্থ নিরাপদে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
নাহিদ ফরাজী/কেজে
What's Your Reaction?