সন্তানের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভুল করছেন না তো?
সোশ্যাল মিডিয়া এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে অনেক বাবা-মা নিয়মিত তাদের সন্তানের ছবি, ভিডিও ও নানা মুহূর্ত শেয়ার করেন। প্রথম দাঁত ওঠা, স্কুলে প্রথম দিন, জন্মদিনের আনন্দ সবই তুলে ধরা হয় অনলাইনে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নিরীহ আনন্দ কি ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার বিষয়টি যতটা আবেগের, ততটাই সতর্কতার। কারণ একবার কোনো ছবি অনলাইনে আপলোড হলে সেটি আর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সেটি কপি, ডাউনলোড বা ভুলভাবে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অনেক সময় এই ছবিগুলো অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতেও চলে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। শিশুরা বড় হয়ে ওঠার আগেই তাদের একটি অনলাইন পরিচয় তৈরি হয়ে যায়, যা তারা নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ডিজিটাল পরিচয় ভবিষ্যতে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ বা কর্মজীবনে গিয়ে পুরোনো ছবি বা তথ্য নিয়ে বিব্রত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আ
সোশ্যাল মিডিয়া এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে অনেক বাবা-মা নিয়মিত তাদের সন্তানের ছবি, ভিডিও ও নানা মুহূর্ত শেয়ার করেন। প্রথম দাঁত ওঠা, স্কুলে প্রথম দিন, জন্মদিনের আনন্দ সবই তুলে ধরা হয় অনলাইনে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নিরীহ আনন্দ কি ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার বিষয়টি যতটা আবেগের, ততটাই সতর্কতার। কারণ একবার কোনো ছবি অনলাইনে আপলোড হলে সেটি আর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সেটি কপি, ডাউনলোড বা ভুলভাবে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অনেক সময় এই ছবিগুলো অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতেও চলে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। শিশুরা বড় হয়ে ওঠার আগেই তাদের একটি অনলাইন পরিচয় তৈরি হয়ে যায়, যা তারা নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ডিজিটাল পরিচয় ভবিষ্যতে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ বা কর্মজীবনে গিয়ে পুরোনো ছবি বা তথ্য নিয়ে বিব্রত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
এছাড়া সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকিও উপেক্ষা করা যায় না। শিশুর ছবি বা ভিডিও কখনো কখনো কটূক্তি, মিম বা অপব্যবহারের শিকার হতে পারে। এতে শুধু শিশুই নয়, পুরো পরিবার মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে সব ধরনের শেয়ারিংই ক্ষতিকর। অনেক অভিভাবক শুধু কাছের বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে মুহূর্ত ভাগ করে নিতে চান। এক্ষেত্রে প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহার করা, অচেনা লোকদের অ্যাক্সেস সীমিত রাখা এবং অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শিশুর মুখ স্পষ্ট না দেখিয়ে ছবি শেয়ার করা, লোকেশন ট্যাগ না করা এবং সংবেদনশীল মুহূর্তগুলো অনলাইনে না দেওয়াই ভালো। পাশাপাশি অভিভাবকদের উচিত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি পোস্টের আগে একবার ভেবে দেখা এটি কি সত্যিই শেয়ার করা প্রয়োজন কি না?
সন্তানের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একদিকে যেমন আনন্দের বিষয়, অন্যদিকে তেমনি এটি দায়িত্বেরও। সচেতন ব্যবহারই পারে এই আনন্দকে নিরাপদ রাখতে।

এখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্ট
কেএসকে
What's Your Reaction?
