সব খেলায় বছরে কমপক্ষে চারটি জাতীয় প্রতিযোগিতার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে বছরে কমপক্ষে চারটি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশে বা দেশের বাইরে কমপক্ষে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও খেলতে হবে। রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটোরিয়ামে নবগঠিত ১৪টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার নবগঠিত বাকি ১৩ ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সাথে বসবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে এনে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রায় ১২৪৪ কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক \'সিড মানি\' বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদনের বিষয়টি সকলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, অনুমোদিত এই সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবি
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে বছরে কমপক্ষে চারটি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশে বা দেশের বাইরে কমপক্ষে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও খেলতে হবে।
রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটোরিয়ামে নবগঠিত ১৪টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার নবগঠিত বাকি ১৩ ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সাথে বসবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে এনে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রায় ১২৪৪ কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক 'সিড মানি' বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদনের বিষয়টি সকলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, অনুমোদিত এই সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবিল থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতি বছর সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে প্রদান করা হবে। যা দিয়ে তারা ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংয়ের মতো নিজ নিজ খেলাধুলার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে।
লভ্যাংশের বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হবে, যেন ভবিষ্যতেও ক্রীড়া খাত টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করতে পারে।
ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করে তিনি বেশ জোর দিয়েই জানান যে, বিগত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপকর্ম ইতোমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং বিভিন্ন সংস্থাও এগুলো তদন্ত করে কাজ করছে। অতীতে ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মধ্যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে ফেলার বার্তা দেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।
একই সাথে তিনি নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রখ্যাত নারী সংগঠকদের প্রশংসা করেন এবং দেশের প্রতিটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দেন। খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি চার মাস পর পর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা বা রিভিউ করার কথাও বলেন। পর্যালোচনায় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত ক্রীড়াবিদদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শ্যুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আর্চারি এবং অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
আরআই/এমএমআর
What's Your Reaction?