সমুদ্রসৈকতে অন্যরকম গ্ল্যাম্পিংয়ের গল্প
মো. আশিকুর রহমান বইয়ের পাতায় আফ্রিকার সাফারিতে ‘গ্ল্যাম্পিং’য়ের গল্প পড়েছিলাম অনেক আগে। বুনো ও নির্জন পরিবেশে একটা তাঁবু, অথচ তার ভেতরটা দারুণ গোছানো—ভাবতেই মনের ভেতর রোমাঞ্চ কাজ করতো। কিন্তু সেই রোমাঞ্চের স্বাদ নিতে যে সুদূর আফ্রিকা যেতে হবে না, তা জানা ছিল না। যখন শুনলাম দেশের প্রথম ‘গ্ল্যাম্পিং’ বা গ্ল্যামারাস ক্যাম্পিংয়ের অভিজ্ঞতা মিলছে খোদ কক্সবাজারে। তখনই ঠিক করলাম—এবার গন্তব্য হবে সমুদ্রের সেই নির্জন নীল জলরাশি। আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন থেকে ‘বিজয় এক্সপ্রেস’-এর ঝকঝক শব্দে জানালার বাইরে বদলে যাওয়া দৃশ্যপট দেখতে দেখতে যখন চট্টগ্রাম স্টেশনে নামলাম; তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। সেখান থেকে বাসে করে সোজা কক্সবাজার। তবে আমাদের গন্তব্য মূল শহরের চেনা ও ঘিঞ্জি সৈকত ছিল না। ডলফিন পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আমরা ছুটলাম মেরিন ড্রাইভ ধরে। একদিকে পাহাড়ের অটল গাম্ভীর্য, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি—এই দুইয়ের মাঝখান দিয়ে প্যাঁচার দ্বীপের দিকে আমাদের পথচলাটা ছিল স্বপ্নের মতো। আরও পড়ুন বর্ষায় ঝরন
মো. আশিকুর রহমান
বইয়ের পাতায় আফ্রিকার সাফারিতে ‘গ্ল্যাম্পিং’য়ের গল্প পড়েছিলাম অনেক আগে। বুনো ও নির্জন পরিবেশে একটা তাঁবু, অথচ তার ভেতরটা দারুণ গোছানো—ভাবতেই মনের ভেতর রোমাঞ্চ কাজ করতো। কিন্তু সেই রোমাঞ্চের স্বাদ নিতে যে সুদূর আফ্রিকা যেতে হবে না, তা জানা ছিল না। যখন শুনলাম দেশের প্রথম ‘গ্ল্যাম্পিং’ বা গ্ল্যামারাস ক্যাম্পিংয়ের অভিজ্ঞতা মিলছে খোদ কক্সবাজারে। তখনই ঠিক করলাম—এবার গন্তব্য হবে সমুদ্রের সেই নির্জন নীল জলরাশি।
আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন থেকে ‘বিজয় এক্সপ্রেস’-এর ঝকঝক শব্দে জানালার বাইরে বদলে যাওয়া দৃশ্যপট দেখতে দেখতে যখন চট্টগ্রাম স্টেশনে নামলাম; তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। সেখান থেকে বাসে করে সোজা কক্সবাজার।
তবে আমাদের গন্তব্য মূল শহরের চেনা ও ঘিঞ্জি সৈকত ছিল না। ডলফিন পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আমরা ছুটলাম মেরিন ড্রাইভ ধরে। একদিকে পাহাড়ের অটল গাম্ভীর্য, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি—এই দুইয়ের মাঝখান দিয়ে প্যাঁচার দ্বীপের দিকে আমাদের পথচলাটা ছিল স্বপ্নের মতো।
আমাদের মূল আকর্ষণ ছিল প্যাঁচার দ্বীপে সমুদ্রের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা ‘মেরিন বে গ্ল্যাম্পিং বিচ রিসোর্ট’। এখানে এসে পৌঁছাতেই চারপাশের অদ্ভুত নিস্তব্ধতা আমাদের গ্রাস করলো। শহরের চেনা কোলাহল নেই, পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় নেই—কেবল আছে সমুদ্রের অবিরাম গর্জন আর বাতাসের ঝাপ্টা।
আসলে ‘গ্ল্যাম্পিং’ শব্দটা এসেছে ‘গ্ল্যামারাস’ এবং ‘ক্যাম্পিং’ থেকে। আমরা সাধারণত তাঁবু বলতে বুঝি পাহাড় বা বনের মধ্যে কোনো কষ্টসাধ্য অবস্থান। কিন্তু এখানে এসে ক্যাম্পিংয়ের ধারণাটাই বদলে গেল। বাইরের রূপটা তাঁবুর হলেও, ভেতরে রয়েছে এসির ঠান্ডা বাতাস আর আরামদায়ক বিছানার মতো সব নাগরিক সুবিধা। একে তো চোখের সামনে সমুদ্র, তার ওপর তাঁবুর ভেতরে এমন আয়োজন—সত্যিই অভিনব অভিজ্ঞতা!
এখানকার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর নির্জনতা। একদম শান্ত ও নিরিবিলি এই সৈকতে কোনো হকার বা মানুষের জটলা নেই। সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশটা লালচে আভা ছড়ায়; তখন বালুচরে একা বসে সমুদ্রের রূপ দেখাটা ছিল পুরো ভ্রমণের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আর রাতের অভিজ্ঞতা তো আরও মায়াবী! চাঁদের আলোয় তাবুর বাইরে বসে অন্ধকারের বুক চিরে আসা ঢেউয়ের শব্দ শোনাটা অদ্ভুত মোহময় মুহূর্ত তৈরি করেছিল।
ভ্রমণসঙ্গী নওসাদ আল সাইম বলছিলেন, ‘সমুদ্রের একদম কোলঘেঁষে তাঁবু পরা অবস্থায় বসে সমুদ্র উপভোগ করার এই গ্ল্যাম্পিং অভিজ্ঞতা আমাদের ভাবনার বাইরে ছিল। ক্যাম্পাসের একঘেয়েমি কাটাতে প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে এমন আধুনিক ও আরামদায়ক মিশেল সত্যিই অনন্য। বিশেষ করে সাফারির সেই বইয়ে পড়া অভিজ্ঞতা যখন নিজের দেশে পেলাম; তখন আনন্দের মাত্রাটা অনেক বেড়ে গেছে।’
প্রতিদিনের চেনা ছক আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে সমুদ্রের এ রূপ আর ক্যাম্পিংয়ের রোমাঞ্চ সত্যি অনন্য। বইয়ের পাতায় পড়া সেই সাফারির স্বাদ যেন চেনা সমুদ্রের পাড়েই নতুন মুগ্ধতা দিয়ে গেল আমাদের।
এসইউ
What's Your Reaction?

