সমুদ্রের পাড়ে ব্রাজিলের উন্মাদনা
শত শত মোটরসাইকেলের বহর, ব্রাজিলের পতাকা আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠল বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের এই উপকূলীয় শহর। মেরিন ড্রাইভের বাতাসে তখন শুধু একটাই গান- সেলেসাওর জয়গান। সবুজ-হলুদ পতাকা হাতে, প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে শত শত তরুণ বেরিয়ে পড়েছেন পথে। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ বহর এঁকে দিচ্ছে ব্রাজিলের রঙে রঙিন এক মিছিল- যা দেখে থমকে গেছেন পথচারীরা, করতালি দিয়েছেন দোকানিরা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বাকি। কিন্তু টেকনাফে সেই অপেক্ষার কোনো ধৈর্য নেই। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলা গেইট থেকে এক বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ব্রাজিল সমর্থকেরা জানান দিলেন- হেক্সার স্বপ্ন তাদের বুকেও বাসা বেঁধেছে। দুপুরের রোদ তখনো চড়া। কিন্তু তাতে দমেননি কেউ। উপজেলা গেইট থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা ক্রমে বড় হতে থাকে। টেকনাফ স্থলবন্দর পেরিয়ে সেই মিছিল গিয়ে মেলে মেরিন ড্রাইভ জিরো পয়েন্টে- যেখানে সমুদ্রের হাওয়ায় পত পত করে উড়েছে ব্রাজিলের পতাকা। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান সমর্থকদের। তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মিলেছেন এই উৎসবে। পুরো
শত শত মোটরসাইকেলের বহর, ব্রাজিলের পতাকা আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠল বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের এই উপকূলীয় শহর। মেরিন ড্রাইভের বাতাসে তখন শুধু একটাই গান- সেলেসাওর জয়গান। সবুজ-হলুদ পতাকা হাতে, প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে শত শত তরুণ বেরিয়ে পড়েছেন পথে।
মোটরসাইকেলের দীর্ঘ বহর এঁকে দিচ্ছে ব্রাজিলের রঙে রঙিন এক মিছিল- যা দেখে থমকে গেছেন পথচারীরা, করতালি দিয়েছেন দোকানিরা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বাকি। কিন্তু টেকনাফে সেই অপেক্ষার কোনো ধৈর্য নেই। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলা গেইট থেকে এক বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ব্রাজিল সমর্থকেরা জানান দিলেন- হেক্সার স্বপ্ন তাদের বুকেও বাসা বেঁধেছে।
দুপুরের রোদ তখনো চড়া। কিন্তু তাতে দমেননি কেউ। উপজেলা গেইট থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা ক্রমে বড় হতে থাকে। টেকনাফ স্থলবন্দর পেরিয়ে সেই মিছিল গিয়ে মেলে মেরিন ড্রাইভ জিরো পয়েন্টে- যেখানে সমুদ্রের হাওয়ায় পত পত করে উড়েছে ব্রাজিলের পতাকা। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান সমর্থকদের। তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মিলেছেন এই উৎসবে। পুরো এলাকা যেন একটি উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
ব্রাজিল সমর্থকদের উৎসাহের কেন্দ্রে এখন একটাই নাম- নেইমার। দীর্ঘ ইনজুরির পর জাতীয় দলে ফেরা এই তারকাকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন সমর্থকেরা। অনেকের বিশ্বাস, এটাই হবে নেইমারের ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ- আর সেই বিশ্বকাপেই ব্রাজিল পূর্ণ করবে তাদের কাঙ্ক্ষিত 'হেক্সা মিশন'।
সমর্থক মুর্শেদ আলম বলেন, নেইমার দলে ফেরায় ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। সবাই ব্রাজিলের জন্য দোয়া করবেন। আমরা আশা করি, এবার ব্রাজিলের 'হেক্সা মিশন' সফল হবে।
একই সুর আরেক সমর্থক রিয়াজের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, নেইমার ব্রাজিলের মূল দলে ফেরায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা আরও বেড়ে গেছে। আমরা আশাবাদী, সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে নেইমারের হাত ধরেই ব্রাজিল তাদের কাঙ্ক্ষিত 'হেক্সা মিশন' পূরণ করতে পারবে।
শুধু উৎসব নয়, এই শোভাযাত্রার পেছনে আছে একটি সচেতন উদ্যোগও। ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের আয়োজকেরা চান, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হোক।
আয়োজক শাহ আলম বলেন, আজকের এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয় দল ব্রাজিলকে শুভকামনা জানিয়েছি। ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম ও ছোট ভাইয়েরা ফুটবলের প্রতি আরও উৎসাহিত হয়। আমরা সমর্থকদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখারও চেষ্টা করছি। বিশ্বের ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলই একমাত্র দল, যারা প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে।
আয়োজকদের একজন বাহাউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ উপজেলা টেকনাফ থেকে আমরা সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই- এ দেশেও ব্রাজিলের অসংখ্য উন্মাদ সমর্থক রয়েছে। আমরা চাই, আজকের এই শোডাউনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্রাজিল পর্যন্ত পৌঁছাক। একই সঙ্গে আমাদের প্রত্যাশা, ব্রাজিলের 'হেক্সা মিশন' সফল হবে এবং সারা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আমরা সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো।
আরেক আয়োজক হেলাল উদ্দিন বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদনের আসরগুলোর একটি। প্রতি চার বছর পরপর এই আয়োজনকে ঘিরে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা উন্মাদনায় মেতে ওঠেন। সেই আবেগ থেকেই বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ উপজেলা টেকনাফের ব্রাজিল সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলকে স্বাগত জানিয়েছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ফুটবলকে উপভোগ করা এবং এই আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করা। পাশাপাশি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ বিনোদনের সংস্কৃতি বজায় রেখে যেন সবাই সুন্দরভাবে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আজকের এই শোডাউনের আয়োজন।
টেকনাফজুড়ে এখন উৎসবের রং শোভাযাত্রার উন্মাদনা কেবল মেরিন ড্রাইভে সীমাবদ্ধ নয়। বাসাবাড়ির ছাদ, দোকানপাট আর সড়কের পাশে এখন শোভা পাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির পতাকা। প্রিয় দলের রঙে বাড়ি সাজানো আর বড় পতাকা টানানো নিয়ে চলছে সমর্থকদের মধ্যে অলিখিত প্রতিযোগিতা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল- যারা পাঁচবার জিতেছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। সেই গৌরবের স্মৃতি বুকে নিয়ে ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন টেকনাফের হাজারো সমর্থক। মেরিন ড্রাইভের ঢেউয়ের মতোই তাদের প্রত্যাশা- থামার নাম নেই।
What's Your Reaction?