ছেলে সন্তান না থাকায় পাঁচ মেয়ের নামে জীবনের সব সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
সম্পত্তির অংশ বুঝে নেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে ভাড়াকৃত গুদামঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে বড় মেয়ের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসদরের চাঁচকৈড় পুরানপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বিকেল ৩টার দিকে গুরুদাসপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একটি করেছেন বৃদ্ধ বাবা মোসলেম সরকার (৬২) এবং অন্যটি করেছেন তার ভাড়া দেওয়া গুদামঘরের ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলাম সুমন (৪৩)।
অভিযোগে বড় মেয়ে বিউটি বেগম (৪০), তার স্বামী আবু সাইদ (৫০) এবং স্থানীয় বাসিন্দা সরোয়ার শাহ (৪৭) কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আবু সাইদ মৃত আবুল হোসেনের ছেলে এবং সরোয়ার শাহ মৃত আদম শাহর ছেলে। তারা উভয়েই চাঁচকৈড় পুরানপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। আবু সাইদ পেশায় পুলিশ সদস্য এবং সরোয়ার শাহ একজন ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, ছেলে সন্তান না থাকায় মোসলেম সরকার ও তার স্ত্রী মজিনা বেগম (৫৫) তাদের পাঁচ মেয়ে বিউটি, তানিয়া, বেনা, রাবেয়া ও কুলসুমের নামে ৫৯ শতক জমিসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি লিখে দেন। ওই সম্পত্তির ওপর রয়েছে একতলা পাকা বাড়ি, তিনটি গুদামঘর এবং একটি গুঁড়ার মিল। এসব থেকে প্রাপ্ত আয়েই চলে বৃদ্ধ দম্পতির সংসার।
তবে সম্পত্তি হস্তান্তরের কিছুদিন পর থেকেই বড় মেয়ে বিউটি বেগম নিজের অংশ বুঝে দেওয়ার জন্য বাবার ওপর চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ পরিবারের। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মেয়ের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। একপর্যায়ে সম্পত্তি ফেরতের দাবিতে মেয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেন মোসলেম সরকার।
অভিযোগ রয়েছে, চলমান বিরোধের জেরে সোমবার সকালে বাড়ির মূল ফটকে তালা দিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এরপর ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে ভাড়া দেওয়া দুটি গুদামঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় একটি লেদ মেশিনের গুদামঘর থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুটসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলাম সুমন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিউটি বেগম বলেন, ‘বাবার সম্পত্তির জন্য আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়ে হজ করতে পাঠানো হয়েছে। আমি বারবার আমার অংশ বুঝে চাইলে বাবা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। নিজের প্রাপ্য চাইলে সেটা কি অপরাধ?’
অপরদিকে মোসলেম সরকার বলেন, ‘স্ত্রীর কথায় বিশ্বাস করে সহজ-সরল মনে পাঁচ মেয়ের নামে সব সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলাম। তখন বলেছিলাম, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন সম্পত্তি ভোগদখল আমার কাছেই থাকবে। চার মেয়ে বিষয়টি মেনে নিলেও বড় মেয়ে তা মানতে চায় না। আমি কখনও ভাবিনি, আমার নিজের মেয়ে আমাকে ও তার মাকে ঘরে বন্দী করে ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাবে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’